আমার দেখা বিশ্বকাপ ক্রিকেট : সামসুল ইসলাম
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৫-৩০ ১৩:৪৮:২৭

মোঃ সামসুল ইসলাম
ক্রীড়া ভাষ্যকার, বেতার এবং টেলিভিশন
আজ (৩০ মে, ২০১৯) ইংল্যান্ডে আবার বসছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর।১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া আইসিসির মেগা ইভেন্টের এটি ১২তম আসর।
বিশ্বকাপ নিয়ে আমার স্মৃতি বলতে ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপের কিছু কিছু ঘটনা আবছা মনে পড়লেও স্পষ্ট কিছু মনে পড়েনা।তাই আমার বিশ্বকাপ দেখা বা ফলো করার শুরুটা ১৯৯২ সাল থেকে। কিশোর বয়সেই দেখলাম ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইমরান খানের পাকিস্তান ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন মোলবোর্ণে।গ্রুপ পর্বে দাপট দেখানো নিউজিল্যান্ড সেমিতে এসে পাকিস্তানের কাছে পাত্তাই পেলোনা। এরপর এলো ১৯৯৬ সালের উপমহাদেশের বিশ্বকাপ ক্রিকেট।সেখানে উপমহাদেশের নতুন ক্রিকেট শক্তি রানাতুঙ্গার শ্রীলংকা অষ্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ট্রফি জিতে নিল।অতঃপর ১৯৯৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে আমরা প্রত্যক্ষ অংশীদার।প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে বাংলাদেশ, তাই আমাদের আগ্রহ আর উন্মাদনার কোন কমতি ছিলোনা।
প্রথম অংশগ্রহণেই স্কটল্যান্ড এবং পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। সে কি উচ্ছাস আর আনন্দ, সে স্মৃতি ছিল ভাষাহীন।অথচ সেই পাকিস্তানই ফাইনালে অষ্ট্রেলিয়ার কাছে অসহায় আত্মসমর্পন করেছিল। ততোদিনে আমি বেতার এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় কাজ শুরু করেছি। তাই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শুধু দুইচোখ দিয়ে নয়, কখোনো কখোনো তা ৩য় এবং ৪র্থ নয়নে দেখার চেষ্টাও করেছি।এরপর চলে এলো ২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ। সেবছরই আমি বেতারের তালিকাভুক্ত ক্রীড়া ভাষ্যকার হয়েছিলাম। মাঠের ক্রিকেটে সেবার আমাদের খুব বাজে সময় গিয়েছে। এমনকি কানাডার কাছেও হারতে হয়েছিল আমাদের। অষ্ট্রেলিয়া টানা ২য় এবং ভারতকে হারিয়ে তাদের ৩য় শিরোপা ঘরে তোলে তারা। আগের দুটি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ বেতার মাঠ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিল। কিন্তু ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ বেতার মাঠ থেকে নয় আগারগাঁয়ের স্টুডিও থেকে টিভি দেখে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। তাই কোন কাঠ খড় পোড়ানো ছাড়াই, ঢাকায় বসে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ম্যাচের বল টু বল ধারাভাষ্য করার সুযোগ পেয়ে গেলাম বেতারে।
বাংলাদেশের নজরকাড়া নৈপূণ্য, বিশেষ করে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা বধের গল্প ভোলার নয় কোনদিন। বিশ্বকাপের কদিন আগে সেবছরই সংসারধর্ম শুরু করেছিলাম। ব্রিজটাউনের ফাইনালে অষ্ট্রেলিয়া শ্রীলংকাকে ড়রাজিত করে হ্যাট্রিকসহ ৪র্থ শিরোপা ঘরে তোলে।মাঠের ক্রিকেট এবং ভাষ্যকার হিসেবে অভিষেক বিশ্বকাপ, সবমিলিয়ে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ আমার জন্য অতীব স্মরনীয়। এরপর আবারো উপমহাদেশে আসর বসলো ২০১১ সালের বিশ্বকাপ। এবারই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো যৌথ আয়োজক। অথচ বেতারের পক্ষ থেকে শ্রীংলংকায় অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর সরাসরি ধারাভাষ্য করার সুযোগ পেলাম। ভাষ্যকার হিসেবে প্রথম বিদেশ সফর বেশ রোমঞ্চিত ছিলাম সেবার। প্রায় ৩৫ দিনের শ্রীলংকা ভ্রমণ, এ এক দারুণ অনুভুতি।
চট্রগ্রামে ইংল্যান্ড বধ করলো বাংলাদেশ, বিদেশের মাটিতে আমাদের মাথাটা উঁচু হলো সেদিন। ব্রিটিশরা সমীহের দৃষ্টিতে তাকায় আমাদের দিকে, এইতো চেয়েছি এতোদিন।অবশেষে মুম্বাইয়ের ফাইনালে শ্রীলংকাকে পরাজিত করে ১৯৮৩ এর পর ২য় শিরোপা জিতলো ভারত। সালটা ২০১৫ বিশ্বকাপের আসর বসলো নিউজিল্যান্ড এবং অষ্ট্রেলিয়ায়। বেতারের ধারাভাষ্য টিমে সুযোগ পাওয়ার জন্য ভাষ্যকারগণ যা নয় তাই করছেন। আমি সুযোগ না পেলেও হতাশ হইনি সেদিন।কারন ততোদিনে রেডিও ভুমিতে থিতু হয়েছি। ২০১৫ বিশ্বকাপের প্রায় সবগুলো ম্যাচেই ধারাভাষ্য করলাম রেডিও ভুমিতে। সেটাই ছিল বেসরকারি এফ.এম রেডিও কর্তৃক সম্প্রচারিত প্রথম কোন বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসর।মাঠের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দুর্দান্ত দাপুটে নৈপূণ্য দেখিয়ে ইংল্যান্ডকে আবারো বিদায় করে দিল এবং আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল খেললাম।কিন্তু দুই স্বাগতিকের ফাইনালে জয় হলো অষ্ট্রেলিয়ার। তারা সর্বাধিক ৫ম শিরোপা জিতে নিয়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিলেন।
এরপর ২০১৯ বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর মাঠে গড়াচ্ছে আজ। স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে সুদুর অতীতে চলে গিয়েছিলাম। এবার অনেক আশা এবং সম্ভাবনা নিয়ে ইংল্যান্ড গেছে বাংলাদেশ।আমাদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা টিম অংশ নিচ্ছে এবার। তাই প্রত্যাশা গগণচুম্বি। এমন একটি আসরে বেতার সরাসরি মাঠ থেকে ধারাভাষ্য প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারেনি। তথাপি বেতারসহ মোট ৭টি রেডিও স্টেশন এবারের বিশ্বকাপে বাংলা ধারাভাষ্য সম্প্রচার করছে। বাংলাদেশ দলের জন্য শুভকামনা। এবারের বিশ্বকাপেও প্রত্যেকটি ম্যাচের ধারাভাষ্য নিয়ে আপনাদের সংগেই থাকছি। দোয়া করবেন। আপনাদের সকলের মঙ্গল হোক।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












