বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের কার্যক্রমে ব্যর্থ হয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গ্লোবাল পার্টনারশিপ (জিপিএসএ) উদ্যোগে বাস্তবায়িত সোশ্যাল এনগেজমেন্ট ফর বাজেটরি একাউন্টিবিলিটি (এসইবিএ) প্রকল্পে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দাতা সংস্থা।
প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও ১৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা অব্যবহূত রয়েছে। প্রথমে ওই অর্থ অন্য প্রকল্পে ব্যবহারের চেষ্টা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সম্মতি না মেলায় অর্থ ফেরত পাঠাতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
তথ্য মতে, তৃণমূল জনগোষ্ঠীকে অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং স্থানীয় সরকার পরিচালনায় নাগরিককে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে জিপিএসএর আওতায় এমজেএফ ২০১৪ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করে। পাঁচটি বিভাগকে কার্যক্রম এলাকা হিসেবে নেয়া হয়, এগুলো হলো— ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল। পাঁচ বিভাগের ৪৫টি ইউনিয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রকল্পটিতে ৮৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করে বিশ্বব্যাংক।
ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে বাজেটের স্বচ্ছতা, স্থানীয় উন্নয়ন উদ্যোগগুলোতে অন্তর্ভূক্তকরণ এবং সামাজিক জবাবদিহিতার জন্য সক্ষম পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করা হয়। এনজিও ব্যুরোর তথ্য মতে, সোস্যাল এনগেজমেন্ট ফর বাজেটরি জবাবদিহিতা (এসইবিএ) প্রকল্পের পুরো অর্থ খরচ করতে পারেনি এমজেএফ।
মেয়াদ শেষে মাদার অ্যাকাউন্টে রয়েছে গেছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা। অব্যবহূত ওই অর্থ দাতা সংস্থাকে ফেরত না দিয়ে সমধর্মী অন্য প্রকল্পে ব্যয় করার জন্য ব্যুরোর অনুমতি চায় এনজিও সংস্থা। এনজিও ব্যুরোর বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করলে পলিসি অনুসরণ করে অর্থ ফেরত দাতা সংস্থাটি। পরবর্তীতে অব্যবহূত ওই অর্থ দাতা সংস্থাকে ফেরত দিতে নির্দেশ দেয় ব্যুরো।
একই চিঠি সরকারের অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগকে (ইআরডি) দেয় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। ইআরডির সিনিয়র সহকারী সচিব এ কে এম রেজাউর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে ওই অর্থ দাতা সংস্থাকে ফেরত দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। ইআরডি ও এনজিও ব্যুরোর নির্দেশনার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে একটি পেমেন্ট অর্ডার পাঠায় এমজেএফ।
কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়র বাজেট শাখার অনাপত্তিপত্র না থাকায় পেমেন্ট অর্ডারটি ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বাজেট শাখার অনাপত্তিপত্রসহ পুনরায় আবেদন করার পরমার্শ দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর গত ১৬ জুলাই বাজেট শাখার অনাপত্তি পত্র চেয়ে অর্থ সচিবকে চিঠি দিয়েছে এনজিও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, নিয়ম অনুযায়ী-বিদেশি সংস্থার অব্যবহূত ওই অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে অনাপত্তি দেবে অর্থমন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কেন অর্থ ব্যবহারে এনজিও ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত করার জন্য এনজিও ব্যুরোকে নির্দেশনা দেয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঙ্গে অফিসিয়াল নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা। প্রতিষ্ঠালগ্ন সময় থেকে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের কাজ করে আসছে।