খালেদা জিয়াকে ফিরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে দুঃখিনী বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সুচিকিৎসার অভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষের অব্যাহত দাবির পরও সম্পূর্ণ নিরপরাধ দেশনেত্রীকে শুধুমাত্র প্রতিহিংসা চরিতার্থে ক্ষমতার মত্ততায় কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে।’
খালেদা জিয়ার আতঙ্কে সরকার প্রহর পার করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘চোর যেমন গৃহস্থের ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে, এই অবৈধ সরকারের অবস্থা হয়েছে ঠিক তেমন। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তার জামিনে বাধা দিচ্ছেন সরকারপ্রধান নিজেই। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে উপহাস করে নিজেরাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে দৌড়াচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চোখের চিকিৎসার কথা বলে দুই দফায় দীর্ঘদিন লন্ডনে থেকে এসেছেন। শুধুমাত্র চোখের অপারেশনে এত দিন সময় লাগে কি না, তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। রোগ-ব্যাধি-জরা বলে কয়ে আসে না। ৭৫ বছর বয়স্ক দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে অবজ্ঞা-উপহাস না করে দ্রুত তাকে মুক্তি দিন।’
এডিস মশা মারার জন্য কার্যকর ওষুধ আনা হয়েছে— ঢাকার একটি সিটি করপোরেশনের মেয়রের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, এই ছিটানো ওষুধে এডিস মশা আরও উৎসাহিত হয়ে ব্যাপকভাবে সন্তান-সন্তুতি উৎপাদন করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে, তা রীতিমত বাকওয়াস।’
রিজভী বলেন, ‘মরণের বার্তা নিয়ে ডেঙ্গু হাজির হয়েছে দেশের মধ্যে। ডেঙ্গু আক্রমণের আগেই প্রস্তুতির অভাব এবং ডেঙ্গু রোগে সারাদেশ আক্রান্ত হওয়ার পরও সরকারের উচ্ছ্বাস ও তামাশারও কোনো কমতি নেই।’
‘আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীদের ফটোসেশনে কাজ হবে না, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা’— বলেন রুহুল কবির রিজভী।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আর বাড়বে না— স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগী ও লাশের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এখন ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটি প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।’
রিজভী বলেন, ‘অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয় না। বাস্তব ঘটনা হচ্ছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে বা হাসপাতালে অকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে মানুষ। রোগীতে ঠাসা দেশের সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল। এমনকি সরকারি হাসপাতালগুলো খালি স্থানে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করে ঠেকানো যাচ্ছে না ডেঙ্গু রোগীদের ঢল।’