চামড়ার আড়তদারদের পাওনা ট্যানারি মালিকরা তিন কিস্তিতে পরিশোধ করবে। চামড়ার আড়তদারা ট্যানারির প্রায় চারশ কোটি টাকা পাবে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে ট্যানারি মালিক ও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, তিন কিস্তিতে পাওয়ানা টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে আরও বৈঠকের মাধ্যমে এর বিস্তারিত ঠিক করে নেবেন। পরে ৩১ আগস্ট ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সঙ্গে আরও একটি বৈঠকে এই পাওনা পরিশোধের অগ্রগতি জানানো হবে।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, আগামী শনিবার (২৪ আগস্ট) চামড়া ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন। ওই এতে চূড়ান্ত করা হবে, কোন কোন কোম্পানির কাছে কী পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে। আর দ্বিতীয় বৈঠকটি হবে আগামী বৃহস্পতিবারে (২৯ আগস্ট)। এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে কিভাবে পাওনা টাকা পরিশোধ করা হবে।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদারদের যে পাওনা রয়েছে, সেই পাওনা তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ১৯৯০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অর্থ একটি কিস্তিতে, ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া আরেকটি কিস্তিতে এবং ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া অন্য একটি কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।
তিনি বলেন, বৈঠকে সব পক্ষ একমত হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সমাধানের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে সারাদেশের আটটি জেলা থেকে পাওনা টাকা পরিশোধেরে তালিকা আমরা আজ পেয়েছি। বাকিদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে। এছাড়াও বৈঠকে চামড়ার একটি নীতিমালা ও রোডম্যাপ বিষয়ে আলোচন হয়েছে। আগামী মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এটি উঠতে পারে। হাজারীবাগ থেকে চমড়া মিল্প নগরী সাভারে স্থানান্তরের পর জমি সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে, তা নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়েছে।
চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এবারের চামড়া পুঁতে ফেলা কিংবা নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা সারাদেশে ঘটেনি, কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ বৈঠকে আমরা সন্তুষ্ট কি না, এখনো বলতে পারছি না। আগামী ৩১ আগস্টের বৈঠকে আমরা বলতে পারব আমরা সন্তুষ্ট কি না। তবে আমরা আড়তদারদের বকেয়ার মধ্যে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের পাওনা টাকা আমরা সবার আগে দাবি করছি। তিনি বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে অনেক ট্যানারি মালিকই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন। এটা কিভাবে পাব, তাও আলোচনা করতে হবে।
বৈঠক শেষে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, বৈঠকে আমরা সন্তুষ্ট। এবার আমরা আগামী ২টি বৈঠকে নিজেরা বসে ঠিক করে নেব, পাওনাগুলো কবে, কিভাবে পরিশোধ করা হবে।
তিনি বলেন, এবার চামড়া কেনার জন্য অমরা মাত্র ৬০৫ কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা হয়েছে। আমরা যত টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছি, তত টাকা ব্যাংক ঋণ দিয়েছে। আর নতুন ঋণ পেয়েছি মাত্র ১৫০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, চামড়া কেনার জন্য আমরা নতুন করে ঋণ দাবি করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের টাকা আগে পরিশোধ করার কথা বলছি। চামড়ার দরপতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো চামড়া কিনতে না পারার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, কাঁচা চামড়া নষ্ট হওয়ার পেছনে কারা দায়ী, এটা বলা সম্ভব না। তবে ভবিষ্যতে যেন এটা না হয়, সেজন্য আমরা একমত হয়েছি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের ক্ষতি করে কাঁচা চামড়া রফতানির বিরুদ্ধে আমরা। কারণ এটি করা হলে চমড়া শিল্পের ক্ষতি হবে।
এর আগে, আড়তদারদের পাওনা আদায়ে গত ১৮ আগস্ট সরকারের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসেন হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে চামড়া কেনাবেচায় সম্মত হন চামড়া ব্যবসায়ীরা।