চাঁদপুরের শাহরাস্তির সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের জনম দূঃখী মনোহর আলী। আবার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিও তিনি। মানুষের কাছে হাত পেতে প্রতিদিন যা পান, তা দিয়ে চলে স্ত্রী ও ৩ কন্যা সন্তান নিয়ে তার সংসার। থাকেন একটি ঝুপড়ি ঘরে। আপনজন বলতে স্ত্রী আশরাফী বেগম, ৩ মেয়ে জোসনা, সালমা, নাজমা।
গত কয়েক দিন ধরেই মনোহর আলীর দূঃখ দূর্দশা নিয়ে প্রতিবেদন হয় একাধিক অনলাইন পত্রিকায়। সংবাদের সূত্র ধরে এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সংবাদকর্মীদের বদৌলতে ঝুপড়ি ঘরে অন্ধ মনোহর আলীর বস-বাস বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়লে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম’র নজরে আসে।
সংসদ সদস্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরিন আকতারকে অন্ধ মনোহর আলীর বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে বলেন। ইউএনও মনোহর আলীর খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে সত্যই একজন অসহায় ও খুবই দূঃস্থ। তার পরই সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সংসদ সদস্যের নির্দেশে ইউএনও শিরিন আকতার তাকে কিনে দেয় চাল, ডাল’সহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং সাথে নগদ ৫ হাজার টাকাও প্রদান করেন। ওইদিন এমপি সরাসরি মোবাইল কনফারেন্সে মনোহর আলীর সাথে কথা বলেন এবং একটি ঘর দেয়ার কথা আশ্বাস দেন। বিষয়টি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান এর নজরে আসে। তিনিও সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলেন।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯) সকালে মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম সরাসরি সেই মনোহর আলী ও তার পরিবারকে দেখতে যান শোরসাক গ্রামে। সেখানে অন্ধ মনোহর আলী সংসদ সদস্য তার ঘরে আসলে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপিসহ তার সাথে আগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরিন আকতার, পৌর মেয়র আলহাজ¦ আবদুল লতিফ মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার সহ নেতা-কর্মীদের কেহুই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণ হয়।
অন্ধ মনোহর আলী তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, অনেক বছর ধরে খুবই কষ্টে আছি। কেউ কখনো খোঁজখবর নেয়নি। আপনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমারা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ আপনার সহায় হউক। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যও হাত তুলে দোয়া করেন।
মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম অন্ধ মনোহর আলীকে আশ্বাস্থ করেন আপনার জন্য ৩ শতাংশ জায়গা কিনে একটি বাড়ী করে দেয়া হবে, আপনার ২ মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে এবং যেই পর্যন্ত আপনার বাড়ী না হবে সেই পর্যন্ত আপনি বাসা ভাড়া থাকবেন, সেই থাকা আমরা আপনাকে দেবো। এ সময় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম অন্ধ মনোহর আলীর হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং তার ঝুঁপড়ি ঘরে ডুকে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন।
মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জনগনের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। জনগনের খোঁজ খবর নেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আনাছে কানাছে অনেক মনোহর আলী পড়ে আছে। বঙ্গবন্ধ কন্যা শেখ হাসিনার দেশের মানুষের দূঃখ কষ্ট লাগবে কাজ করছে। সেখানে একজন মনোহর আলী স্ত্রী সন্তান নিয়ে এভাবে দূঃখ কষ্টে থাকবে তা মেনে না যায়না। আমরা তাকে জায়গা কিনে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্ব-রুপ একটি ঘর প্রদান করবো। তিনি সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, আপনার গ্রাম-গঞ্জের এসব চিত্র তুলে ধরবেন। অসহায়দের পাশে থাকবেন। আপনাদের লেখনির মাধ্যমে গ্রাম-গঞ্জের অবহেলিত চিত্র উঠে আসবে।
একই দিন দুপরে হাজীগঞ্জে শেখ হাসিনার উপহার আশ্রহয়ণ প্রকল্প-২ ‘যার জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় ২৪০জন গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘরের চাবি তুলে দেন।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস