বিখ্যাত রুশ ঔপন্যাসিক ম্যাক্সিম গোর্কি ১৮৬৮ সালের ২৮ মার্চ রাশিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন । ম্যাক্সিম গোর্কি তার ছদ্ম নাম।তাঁর আসল নাম অ্যালেক্সি ম্যাক্সিসোভিচ পেশকভ।গল্পটি শুরু হয়েছে কারখানার শ্রমিকদের দৈনন্দিন নিদারুন কষ্টের আর একঘেয়ে জীবনের বর্ণনা দিয়ে ।
মা উপন্যাসটির সামাজিক মূল্য এক কথায় তুলোনাহীন। একটি উপন্যাস একটি জাতির বিবেককে বদলে দিয়েছে,তুমুল ভাবে আলোড়ন আলোকিত করেছে। এমন উদাহরণ বিশ্ব সাহিত্যে আর আছে বলে মনে পড়ে না।পেলাগেয়া নিলভনা নামের একজন অতিসাধারণ মেয়ে মানুষ কি করে সময়ের প্রয়োজনে আস্তে আস্তে রূপান্তরিত হন একজন রাজনীতি সচেতন ব্যাক্তিতে, বুঝতে শেখেন সারাজীবন কি করুন কাটিয়েছেন শ্রেণীগত নির্য়াতন ও লিঙ্গ অবস্থানের অসহায়তার শিকার; তা চমৎকার ভাবে বর্ণনা করেছেন গোর্কি তার দূর্দান্ত ভাষারীতিতে লেখা এই উপন্যাসটিতে।
কারখানার শ্রমিকদের দৈনন্দিন নিদারুন কষ্ট আর একঘেয়ে জীবন । যেখানে নেই কোন আনন্দ,নেই কোন উচ্ছাস। যেখানে প্রতিদিন কারখানার যন্ত্র তাদের ভিতর কার রক্ত চুষে নিচ্ছে, তাদের কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর গহ্বরের দিকে। তাদের কোন ইচ্ছা ছিলোনা এই জীবন ধারাকে পরিবর্তন করার।
যদি কেউ তাদের মধ্যে আবছায় কৌতুহলের সৃষ্টিও করে কিন্তু কিছু কাল পরে তাদের কৌতুহলের সমাপ্তি ঘটে।বুঝে ফেলে সকলদেশেই কুলি মজুরদের জীবন এমনই ভাবে চলছে।তাদের জীবন চলে যন্ত্রকে নিয়ে।এভাবেই তারা যন্ত্র মানবে রূপান্তর হয়, যে মানবের ভিতরে কোন আবেগ নেই, নেই কোন উচ্ছাস।তাদের মন ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে পড়ে দরিদ্রতার কারণে।এই ব্যাধিগ্রস্ত মনকে শান্ত করার জন্যই হয়তোবা তারা নিজেদের মধ্যে কলাহল করে,মারামারি করে এমনকি হত্যাও করে ।
ম্যাক্সিম গোর্কির লেখা মা উপন্যাসটি মূলত বাস্তব চরিত্রে লেখা।পিওতর জালোমভআর তার মা আন্না কিরিলোভনার-ই ছিলেন উপন্যাসের পাভেল ভ্লাসভ আর তাঁর মা পেলেগোয়া নিলভনা। উপন্যাসের নিলভনা মতই আন্নাকিরিলোভনার জীবরেও সুখ ছিলোনা। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার টিকে সেই টিকিয়ে রাখে। পিওরতরের বিপ্লবী চক্রে যোগ দেয়ার পর পরই তার গোটা পরিবাই এ আন্দোলনে যোগ দেয় । পিওতরের সাইবেরিয়া নির্বাসনেও তাকে সত্য প্রচারে বাধা দেয়া হয় নি। সে সময় গোর্কি -ই জালোমভের পরিবারে নিয়মিত টাকা পাঠাত। এমনকি জালোমভের নির্বাসন থেকে পালাতেও গোর্কিই সাহায্য করে । জালোমভ অনেক কষ্টের মধ্যে থেকেও এ আন্দোলন থামায় নি। সে তার এক চিঠিতে লিখেছিলেন-আমি চাই গোলাম যেন না থাকে ,গোলামদের আমি ভালোবাসি না। ভালোবাসি যোদ্ধাদের। যাদের মধ্যে দেখি স্বাধীন মানুষের পৌরুষ। ভালোবাসি সেই সব মানুষকে। এমনই ভাবে পহেলা মে কে সার্থক বানাতে এগিয়ে এসেছিলো বিপ্লবের এক সাধারণ সৈনিক পিওতর জালোমভ। তিনি যেমন মুগ্ধ করেছেন গোর্কিকে তেমনি আমাদের মুগ্ধ করেছেন তার গুচিতায়।
মা ও বিপ্লবী আন্দোলন জাহাঙ্গীর আলম শোভন পাভেল ভ্লাসভ একজন শ্রমিক।সে শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলে দিতে চায়। তাই মা তার ছেলের জন্য সব সময় উদ্বিগ্ন থাকে। কিন্তু একা পাবেল এটা করবেই এমন নয় । সে পাশে পেয়ে যায় নাতাশা ,নিকলাই ,রীবন,সোফিায়,সিজব আরো কয়েকজন কে। এক সময় মায়ের মাঝে ধ্বনিত হয় আন্দোলনের বীজ। মা বুঝতে পারে তার জীবন বদলে গেছে। এক সময় স্বামীর হাতে মার খাওয়াই যে নারীর নিত্য দিনের কাজ ছিলো ,সে নারী এখন এক শ্রমীক নেতার মা। এমন ছেলে নিয়ে মা মনে মনে গর্ব করতেন।
মায়ের সাহায্যে চলতে থাকে গোপন আন্দোলনের প্রস্তুতি। কিন্তু এক সময় পুলিশ জেনে যায় আন্দোলনের খবর । পাভেলকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং সাইবেরিয়ায় যাবজ্জীবন নির্বাসন দেয়। তখন পাভেলের মা কারখানার মধ্যে নিজেই বিপ্লবী লিফলেট বিতরণ করে। আদালতে পাভেল যে বক্তিতা দেয় সে বক্তিতা ছাপা বেআইনি প্রচার পত্রে স্যুটকেস সহ নিলভনা ধরা পরে সশস্ত্র পুলিশের হাতে। এ ভাবে চলে নানা অত্যাচার। কিন্তু মা অটল থাকেন বিপ্লবীদের সাহায্যে। মা ওদের বলছে : মূর্খের দল !দিন দিন নিজেদের বোঝা নিজেরাই বাড়িয়ে চলেছিস কেবল। একদিন সে ভারে তোরা নিজেরাই নুয়ে পড়বি। ম্যাক্সিম গোর্কির লেখা মা উপন্যাসটি মূলত বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লেখা । পিওতর জালোমভ আর তাঁর মা আন্না কিরিলোভনা –ই ছিলেন উপন্যাসের পাভেল ভ্লাসভ আর তাঁর মা পেলাগোয়া নিলভনা।সে সময় ম্যাক্সিম গোর্কি –জালোমভের পরিবারে নিয়মিত টাকা পাঠাত। জালোমভ অনেক কষ্টের মধ্যে থেকেও এ আন্দোলন থামায় নি। এমনই ভাবে পহেলা মে –কে সার্থক বানাতে এগিয়ে এসেছিলো বিপ্লবের এক সাধারণ সৈনিক পিওতর জালোমভ। তিনি যেমন মুগ্ধ করেছেন গোর্কিকে তেমনই আমাদের মুগ্ধ করেছেন তার নৈতিক শুচিতায়। বিশ্ব মাহিত্যের অমর সৃষ্টি মা । ম্যাক্সিম গোর্কির অন্যসব গল্পে যেমন রাশিয়ায় ততকালীন সমাজ ফুটে উঠেছে ।মা উপন্যাস তার চেয়ে বেশী বসাতবতার দলিল।