নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট বাজারের পান বাজার সংলগ্ন রফিক হোমিও হলের স্পিরিট পান করে ছয়জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত এ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরো অন্তত পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নোয়াখালী, ফেনী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাঁশ বেপারি বাড়ির নূর নবী মানিক (৫০), একই এলাকার ক্ষিরত মহাজন বাড়ির অনিল রায়ের ছেলে রবি লাল রায় (৫৫), মোহাম্মদনগর গ্রামের ফয়েজ আহমদের ছেলে মহিন উদ্দিন (৪০), চর কাঁকড়া ইউয়িনের ৪ নং ওয়ার্ডের আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল খালেক (৫৮), সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মতলব মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন রইসুল হকের ছেলে মো. সবুজ (৬০) এবং বসুরহাট পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাশেম বেপারি বাড়ির আবদুর রহমানের ছেলে লিটন (৫৫)।
জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে লিটন আজ শনিবার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আশঙ্কাজনক দুলালকে ফেনীতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকী আশঙ্কাজনক চারজনের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ জানার আগেই নিহত তিনজনের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে আরও দুজনের দাফন এখনো সম্পন্ন হয়নি। পরে পুলিশ খবর পেয়ে রবি লাল রায় এবং নূর নবী মানিক এর লাশ উদ্ধার করে রাতেই থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিক হোমিও হলের মালিক ডা. জায়েদ ও তার ছেলে প্রিয়ম অনেক বছর ধরে খোলামেলাভাবে দোকানে নেশা জাতীয় দ্রব্য স্পিরিট বিক্রি করে আসছিল। স্পিরিট বিক্রির টাকায় সে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে।
ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, একাধিক সূত্রে বিভিন্ন স্থানে স্পিরিট পানে ছয়জনের মৃত্যুর খবর শুনে নিহত পাঁচজনের বাড়ি পরিদর্শন করি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে রবি লাল রায় এবং নূর নবী মানিক এর লাশ উদ্ধার করে রাতেই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে তিনজনের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশ স্পিরিট বিক্রেতা ডা. জায়েদের ছেলে প্রিয়মকে রাতে আটক করা হয়েছে। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ডা. জায়েদকেও আটক করা হয়েছে। আজ সকালে রবি লাল রায় এবং নূর নবী মানিক এর লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সানবিডি/ঢাকা/এবিএস