গাছের ছায়াতো দূরের কথা পাতাও নেই:ইমন

গাছের ছায়া পেতে যত্ন নিতে হবে:স্বপন কুমার বালা

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০১৯-০৯-৩০ ২০:১৯:৫৬


ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেছেন, একটি ভালো কাছ একজন লাগিয়ে গেলে অন্যজন তার থেকে ছায়া পায়। অর্থাৎ একটি ভালো কোম্পানি বাজারে আসলে অন্যরা দীর্ঘ মেয়াদে ভালো ফল পাবে। এর প্রেক্ষিতে বিএসইসির কমশিনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ছায়া পেতে গাছের যত্ন নিতে হবে। এর কোন বিকল্প পথ নেই।

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ -২০১৯ উপলক্ষে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডিএসই কর্তৃক আয়োজিত ‘রিং দ্যা বেল ফর ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি’ শীর্ষক কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘আজকে কেউ গাছের ছায়াতে বসে আছে, তার মানে কেউ একজন বড় গাছ রোপন করেছিল।’ আসলে শেয়ারবাজারের অবস্থাও এমন হওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ এক দিক দিয়ে ভাল কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসবে, সেই শেয়ারগুলো বড় হবে, আর পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীরা তার ছায়ায় থাকবে। কিন্তু এটাই এখন সত্য যে বাজারে শেয়ার আসলে সে শেয়ারের ছায়া তো দূরের কথা, গাছের পাতাও পাওয়া যাচ্ছে না।

বিএসইসির কমিশনার স্বপন কুমার বালার উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আমাদের সেই গাছগুলো দেন, যে গাছগুলো থেকে পরবর্তীতে শীতল ছায়া পাওয়া যাবে। এই ছোট কথার মধ্যে কিন্তু সব কিছু লুকিয়ে আছে। শিক্ষা গ্রহণ করে বাজারে আসার পর বিনিয়োগকারীরা যাতে পরবর্তীতে স্বস্তিতে থাকতে পারে।

মিনহাজ মান্নান ইমনের প্রশ্নের জবাবে স্বপন কুমার বালা বলেন, গাছ যিনি লাগাচ্ছেন তার পাশাপাশি গাছের দায়িত্বে যারা আছেন তাদেরকেও গাছের যত্ন নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএসইসি, ডিএসই ছাড়াও শেয়ারবাজারে থার্ড পার্টির দায়িত্বে গাফলতি থাকতে পারে। ইস্যুয়ার কোম্পানি এবং অডিট ফার্মের কোন ব্যার্থতা আছে কিনা সে ব্যপারে খেয়াল রাখতে হবে। যে লোকগুলো কোম্পানি পরিচালনা করছে তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু বিএসইসি না এদেরও ভূমিকা থাকে। কিন্তু খারাপ কোম্পানির কথা আসলে সবার নজর শুধু বিএসইসির দিকেই থাকে। এই ফাঁকফোকরে থার্ড পার্টিগুলো তাদের দায়িত্বে অবহেলা করে যাচ্ছে। এসময় কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ট্রেকহোল্ডারদের পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইস্যুয়ার থেকে শুরু করে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের উচিত খারাপ কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করা থেকে বিরত থাকা। কিন্তু সবাই কেন মরিয়া হয়ে পচা কোম্পানিতে ওভার সাবস্ক্রিপশন করেন?’

তিনি বলেন, ‘আর এ কারণে কোম্পানিগুলোতে সর্বনিম্ন ২০ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে। এজন্য খারাপ কোম্পানিগুলোকেও খারাপ বলতে পারি না। কমিশন একটি সিস্টেমের মধ্যে আইপিওর অনুমোদন দিয়ে থাকে। তবে এ মডিউল পরিবর্তন করা দরকার, প্রয়োজনে পরিবর্তন করা হবে।’

অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘আইপিওর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো কোম্পানি কোনো শাস্তি পায়নি। বিশেষ করে ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিগুলোকে কোনো শাস্তি দিতে দেখিনি। এদের চিহ্নিত করা উচিত। তবে ১৬টি বড় বড় অডিট ফার্মকে জরিমানা করা হয়েছে।’

ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভী, সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক এবং ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি আব্দুল মতিন পাটোয়ারী।

এসময়, ডিএসইর চেয়ারম্যান, প্রফেসর ড. আবুল হাশেম, ডিএসইর সচিব মোহাম্মদ আসাদুর রহমান এবং ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী উপস্থিত ছিলেন।