৯০ এর দশকে দেশের এক তৃতীয়াংশ নলকূপ আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ায় দেশের পল্লী অঞ্চল নিরাপদ পানির সংকটে পড়ে। এ লক্ষ্যে ‘পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ’ প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।
বর্তমানে প্রকল্পটি দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে দেড় বছর মেয়াদ ও ৮০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়াতে প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামীকাল এর ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র থেকে।
প্রস্তাবিত আরডিপিপি থেকে জানা গেছে, সমগ্র বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ করে গ্রামীণ জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। একনেক সভায় ৭৯৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করে ব্যয় ৮৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা করা হয়। প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধনীতে দেড় বছর সময়সহ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ৮৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৩৮২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। যা মোট অনুমোদিত ব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।
দ্বিতীয় সংশোধনীতে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ১৪৩টি পুকুর পুনঃখননসহ পিএসএফ নির্মাণ ও ২০০টি পুকুর খননের সংস্থান রয়েছে। জুন ২০১৯ পর্যন্ত ৬০টি পুকুর পুনঃখননের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ২৩টি পুকুর পুনঃখননের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অবশিষ্ট ৬০টি পুকুরের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা, দখল, পুকুরের অস্তিত্ব না পাওয়া ও জেলা পরিষদের কাছ থেকে সাইট বুঝে না পাওয়া ও সীমানার গড়মিল প্রভৃতি কারণে পুকুরগুলো খনন সম্ভব না।
এছাড়া পরিপত্র অনুযায়ী ৬৩ টি পুকুরের স্থান নির্বাচনসহ প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অবশিষ্ট ১০০টি পুকুর খননের জন্য বিনামূল্যে পুকুর পাওয়া যাচ্ছে না।
আর নিরাপদ পানির জন্য ৪০টি সৌরশক্তি চালিত পিএসএফ ও ৩২০টি হস্ত চালিত সাধারণ পিএসএফ এর সংস্থান রয়েছে।
মূল অনুমোদিত প্রকল্পে অগভীর নলকূপ ছিল ১৩ হাজার ৬৭৫টি, যা প্রথম সংশোধনে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ১৪৯টি। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ৩ হাজার ৫১৯টি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে মূল অনুমোদিত প্রকল্পে গভীর নলকূপ ছিল ১৫ হাজার ৮০০টি। প্রথম সংশোধন করে ৩৪৯টি বাড়ানো হলেও দ্বিতীয় সংশোধনীতে ২ হাজার ৬০৫টি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া ৬ নং গভীর নলকূপ প্রথম পর্যায়ে ৮ হাজার ৬৬২টি বাড়ানো হয় ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫ হাজার ২১৭টি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও মূল অনুমোদিত প্রকল্পে ৬ নং গভীর নলকূপের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮১৪টি।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস