নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষের সময় ছাত্রাবাসে ভাঙচুর ও শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় ৩৫ জনকে বিভিন্ন ধরনের সাজা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১৬ জনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার, ৭ জনকে ২০ হাজার টাকা করে এবং ১২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও দুইজনকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা যায়।
গত বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রিজেন্ট বোর্ডের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই অনুযায়ী আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মো. মমিনুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিষ্কৃত ও দণ্ডপ্রাপ্তদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বিভিন্ন ব্যাচের ১৬ জন শিক্ষার্থীকে ৬ মাসের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এবং ৭ জনকে ২০ হাজার ও ১২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন – রবিউল হক চৌধুরী (কৃষি), মো. জহিরুল ইসলাম(ব্যবসায় প্রশাসন) , মো. আবদুর রহিম সিয়াম(কৃষি), জাহিদ হাসান শুভ (ইএসডিএম), কাজী আশরাফুল হক লিসান (ইএসডিএম), ইয়াসিন আরাফাত তারেক (ইএসডিএম), মো. শফিউর রহমান অন্তর (বিজিই),মো. সাইফুল্লাহ সনি (সিএসটিই),অর্নব সরকার (সমাজ কর্ম), মো. তৌহিদুল ইসলাম (কৃষি), মো. আল ইমরান (আইসিই),আবদুল্লাহ আল মাসুদ (ফলিত গণিত), ওমর ফারুক(কৃষি), মো. মিরাজ মাহতাব (ইংরেজি) ,আবদুল্লাহ আল নোমান (অর্থনীতি), কে এস এম সায়েম (মাইক্রোবায়োলজি)।
সংঘর্ষে নেতৃত্বদান, সংগঠক ও হুমকিদাতা হিসেবে ৭ জনকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তারা হলেন মো. মুহাইমিনুল ইসলাম নুহাস (ফার্মেসি),মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (ব্যবসায় প্রশাসন), জাহিদ হাসান শুভ (ইএসডিএম), হাসানুজ্জামান বিপ্লব (ইএসডিএম), আতাউল করিম রনি (কৃষি), শাফকাত আবির (ইংরেজি), ও আব্দুল্লাহ আল নোমান (অর্থনীতি)। এদের মধ্যে হাসানুজ্জামান বিপ্লব বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এছাড়াও ঘটনায় উপস্থিত এবং বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় অভিযোগে ১২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তারা হলেন মো. আব্দুল রহমান শিহাব(মাইক্রোবায়োলজি), কাজী মাহমুদুর রহমান রাহী(মাইক্রোবায়োলজি) , আব্দুল্লাহ আল মাহদি (কৃষি), মো আল আমিন (কৃষি), মো শাকিল মোস্তফা মানিক (অর্থনীতি), ইয়াছিন আরাফাত (বিএলডব্লিউএস), আক্তারুজ্জামান জিসান (বিএলডব্লিউএস), মো আলি (ইংরেজি), মো. জুবায়ের আহমেদ জনি (বিজিই), কামরুল হাসান (এফটিএনএস), আরফানুল হক (সিএসটিই), মো এহতেশামুল হক শুভ (টিএইচএম)।
গত ৩১ অগাস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুস সালাম হলে ছাত্রলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম রবিন ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ধ্রুব এর গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ভাঙচুর চালিয়ে ছাত্রাবাসের ব্যাপক ক্ষতি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. ফিরোজ আহমদের উপরও হামলা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল অর্নির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে এবং ২ সেপ্টেম্বর ওই হলে অভিযান চালিয়ে বিপুল দেশি অস্ত্র উদ্ধার করে।
সানবিডি/সুদীপ্ত বিশ্বাস