প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন।আজ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নতুন টার্মিনালের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নতুন এই টার্মিনাল স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে ২১ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এরমধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়া যাবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে পাওয়া যাবে। টামির্নাল নির্মিত হওয়ার পর শাহজালাল হবে এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বাধুনিক বিমানন্দর। এটি নির্মিত হলে বছরে আরও অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারবে।
নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালটি হবে ২২ দশমিক ৫ লাখ বর্গফুটের। বর্তমানে দুটি টার্মিনালে ১০ লাখ বর্গফুট স্পেস রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরের বর্তমান যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে দুই কোটি হবে এবং কার্গোর ধারণ ক্ষমতা বর্তমান দুই লাখ টন থেকে বেড়ে পাঁচ লাখ টন হবে।
বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইনসের ইতিমধ্যে জানিয়েছে, উড়োজাহাজ দুটি দিয়ে আসন্ন ৫ জানুয়ারি থেকে ম্যানচেস্টার ও লন্ডন রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। এরই মধ্যে ম্যানচেস্টার রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইটের প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। যদিও উদ্বোধনের আগে সোনার তরীর কিছুটা ত্রুটি রয়েছে বলে বিমানের একটি সূত্র দাবি করেছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আগে থেকেই আমাদের ফ্লাইট নিয়মিত যাওয়া-আসা করছে। ম্যানচেস্টারে ফ্লাইট চলাচল শুরু হলে লন্ডনের ফ্লাইটে যাত্রীর চাপ অনেকটা কমবে। যুক্তরাজ্যের রুট দুটিতে বোয়িং ট্রিপল সেভেনের পরিবর্তে ড্রিমলাইনার পরিচালনা করা হবে।
অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে বিজনেস ক্লাস ৩০টি, প্রিমিয়াম ইকোনমি শ্রেণি ২১টি ও ইকোনমি শ্রেণি ২৪৭টিসহ মোট ২৯৮টি আসন রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ‘সোনার তরী’ এবং গত ২৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ২০ মিনিটে অবতরণ করে ‘অচিন পাখি’। উড়োজাহাজ দুটিকে ওয়াটার স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়।
গত সেপ্টেম্বরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ সিরিজের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধনকালে অত্যাধুনিক দুটি আকাশযান কেনার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এগুলোর নাম রাখেন ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’। এ দুটি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮টি।