নওগাঁর সাপাহার এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা করেছে সরকার। এ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তরা। এ ছাড়া নওগাঁর সাপাহারে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইকবাল শাহারিয়ার রাসেল বলেন, নওগাঁ হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো হওয়ার ফলে শত শত ব্যবসায়ী এই স্থলবন্দর দিয়ে খুব সহজেই মালপত্র আমদানি ও রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। এ স্থলবন্দর দ্রুত চালু হলে হিলি স্থলবন্দর অপেক্ষা ১৭০ কিমি দূরত্ব কমে যাবে। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে উঠলে হিলি, বেনাপোল ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর অপেক্ষা সহজলভ্যভাবে ও সাধ্যমতো ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে হিলি, বেনাপোল ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ওপর চাপ কমে আসবে।
তিনি আরো বলেন, সাপাহার থানার শিরন্টি মৌজার খঞ্জনপুর গ্রামে একটি স্থলবন্দর নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন। খঞ্জনপুর জিরো পয়েন্টের ৫০০ গজের মধ্যেই রয়েছে বিজিবি ক্যাম্প। খঞ্জনপুর শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনের নিরিখে বর্ডার জিরো পয়েন্টের সংলগ্ন সম্ভাব্য জায়গায় খঞ্জনপুর শুল্ক স্টেশন (খঈঝ) চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’ নওগাঁ জেলা কৃষিভিত্তিক হওয়ায় ধান ও আমকে ব্র্যান্ডিং করে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠতে পারে। ধান থেকে চাল, খুদ, কুঁড়া, তুষ, ব্র্যান্ড ও ব্র্যান্ড অয়েল তৈরি হয়, যা দেশের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এসবের জন্য আলাদা শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে নওগাঁ জেলা অর্থনৈতিকভাবে বেশ উন্নতি লাভ করবে। অত্যাধুনিক শিল্প-কারখানা স্থাপন করে ব্র্যান্ড হতে নুডলস, চিপস, বিস্কুট ইত্যাদি উৎপাদন করা সম্ভব। নওগাঁয় ধান উৎপাদন বেশি হওয়ায় ধান মজুদের জন্য একটি সিএসডি হওয়াও খুবই জরুরি।