মিলন,শামিম,রাতুল তিন অন্তরঙ্গ বন্ধু।তারা ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ে।সারাদিন একসাথেই ঘুরে বেড়াই। একদন্ড বিশ্রাম নেই।পড়ালেখায় একদমই মন নেই। কিন্তু কী আর করা বাড়ির কড়া শাসন কোনমতেই স্কুল ফাঁকি দেওয়া চলবেনা। স্কুলের পড়া নিযমিত আদায় করতে হবে।স্কুলে যেতেও মন চায না।স্কুলের গণিত আর ইংলিশ স্যার ভিশন রকমের কড়া।একটু পড়া না হলেই শপাশপ বেতের বাড়ি। গণিত স্যার আবার অংকের সমাধান করতে না পারলে প্রায় সময় মাঠের বাইরে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখে।
প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় হলেই তাদের কে আর খুজে পাওয়া যায় না।আড়ালে গিয়ে গা ঢাকা দেয়।স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলে দিয়েছেন আগামীকাল চতুর্থশ্রেণীর প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হবে।সেখানে সকলেরই উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।একথা শুনেই হৃৎকম্পন শুরু হয় তিন বালকের।তারা জানে কী খারাপ পরীক্ষাই না দিয়েছে তারা।ফলাফল ঘোষণার পর কপালে নিশ্চিতভাবেই জুটবে বেতের বাড়ি।যেভাবেই হোক কাল স্কুলে যাওয়া যাবে না।
ওদিকে বাড়ির লোকজন আবার নজরদারি রেখেছে কোন মতেই যাতে স্কুলে ফাঁকি দিতে না পারে।তাইতো ভীসন অনিচ্ছাসত্বেও স্কুল ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে তিন বন্ধু।বাড়ি থেকে কিছুদুর যেতেই তিনবন্ধু মিলে পরিকল্পনা করে ফেলে কোনমতেই স্কুলে যাবো না।যেখানেই হোক লুকিয়ে থাকতে হবে।যেই ভাবা সেই কাজা।বাড়ির অদুরে টিলার পাশে ঘন লিচুবাগানে গিয়ে আশ্রয় নেই তারা।লুকিয়ে থাকা অবস্থায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়।ক্ষুধায় পেট চোঁ-চোঁ করতে শুরু করে।ক্ষুধা লাগলে কি হবে খাবার তো কিছু নেই।লুকিযে লুকিয়ে বনভোজনের পরিকল্পনা নিল তারা।সন্ধ্যোবেলায় বাড়ি থেকে সকলের অগোচরে হাঁড়ি-পাতিল এবং চাল জোগার করলো।
গ্রামের চানামিয়ার বাড়ি থেকে একটি মুরগী চুরি করলো।এবার রাতের অন্ধকারে শূরু হলো রান্না-বান্নার কাজ।চানামিয়া মুরগীর চিৎকার শুনে বুঝতে পারে তার মুরগী চুরি হয়েছে।সে বাতি নিয়ে মুরগী খোজা শুরু করে।চানা মিয়া গ্রামের অদুরে লিচুবাগানে কারো শব্দ শুনতে পায়। সে এবার চিৎকার শুরু করে গ্রামে চোর এসেছে বলে।গ্রামের লোকেরা লাঠি নিয়ে বের হয়।তিন বালককে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে।সকলেই দেখতে পায় তাদের স্কুল পলাতক ছেলেরা মহাভোজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বালকদের বনভোজনের পূর্বেই পিঠের উপরে শুরু হয় শপাং শপাং বেতের বাড়ি।আরও জোটে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার কারনে পরদিন স্কুলের সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা।
সানবিডি/নুরুজ্জামান