বৈশ্বিক চিনি উৎপাদনে ব্রাজিল-ভারত দ্বৈরথ

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-০৩ ১৩:১৫:৩৫


বৈশ্বিক চিনি উৎপাদন খাতে ব্রাজিল ও ভারতের মধ্যকার প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। একসময় বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ছিল ব্রাজিল। তবে এ খাতে ভারতের উত্থান দেশটিকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ফেলেছে। বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে গত বছর ব্রাজিলকে টপকে শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে ভারত। তবে চলতি বছর দুই দেশেই খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন আগের তুলনায় কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জের ধরে বছর শেষে পণ্যটির শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশের তকমা ফের নিজেদের দখলে নিতে পারে ব্রাজিল। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। খবর এগ্রিমানি ও বিজনেস ইনসাইডার।

ব্রাজিলের চিনি উৎপাদন খাতের এক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বেশির ভাগ সময় দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন কমতির দিকে ছিল। ইউএসডিএ জানিয়েছে, ২০১১ সালে ব্রাজিলে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছরই চিনি উৎপাদন ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টনে নেমে আসে। উত্থান-পতনের ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ব্রাজিলে ৩ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এটাই ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদনের রেকর্ড।

২০১৮ সালে ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৭২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার টনে। গত বছর দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

অন্যদিকে এক দশকের মধ্যে বেশির ভাগ বছর ভারতের চিনি উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি বজায় ছিল। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে ভারতে ২ কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার টনে।

বাড়তে বাড়তে ২০১৮ সালে এসে ভারতে চিনির সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৯ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। ভারতের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদনের রেকর্ড। এর পরও দেশটি শীর্ষ উৎপাদনকারীদের তালিকায় ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।

গত বছর ভারতে ৩ কোটি ৪৩ লাখ টন চিনি উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কম। উৎপাদন কমলেও এ সময় ব্রাজিলকে টপকে শীর্ষ উৎপাদনকারী হিসেবে বিশ্বদরবারে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। এ সময় দেশটি ব্রাজিলের তুলনায় বাড়তি ৪৮ লাখ টন চিনি উৎপাদন করেছে।

ইউএসডিএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর ব্রাজিল ও ভারত দুটো দেশেই চিনি উৎপাদন কমে আসতে পারে। বছর শেষে ব্রাজিলে পণ্যটির উৎপাদন দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টনে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে ভারতে চিনি উৎপাদন কমতে পারে ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বছর শেষে ভারতে চিনি উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৯৩ লাখ টনে।

সে হিসাবে, ৫০ হাজার টন বাড়তি উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ২০২০ সাল শেষে চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় ভারতকে টপকে ফের শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসতে পারে ব্রাজিল। এ কারণে বৈশ্বিক চিনি উৎপাদন খাতে ব্রাজিল ও ভারতের মধ্যকার প্রতিযোগিতা সহসাই কমছে না। এ খাতে আগামী দিনগুলোতেও দুই দেশের দ্বৈরথ বজায় থাকতে পারে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস