সবুজ ক্ষেতজুড়ে সবজির সমারোহ
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-০৩ ১৬:২৭:৪৪

অপরুপ এই দৃশ্যটি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার। এখানকার বেশিরভাগ এলাকায় এরকম দৃশ্য চোখে পরে। চোখের সামনে শুধু সবুজের সমারোহ, গ্রামের মেঠোপথে ধরে হাটলে দু’পাশের ক্ষেতজুড়ে উঁকি দিচ্ছে তরতাজা সবজি ক্ষেত। হাজার হাজার কৃষকের ক্ষেতে শোভা পাচ্ছে শিম, করলা, লাউ, কপি, বেগুনসহ হরেক রকমের সবজি। শুধু মিঠাপুকুরই নয়, এখন পুরো রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা সবজি চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে।
এই বিষয়ে কৃষি বিভাগ বলছে, শস্য বিন্যাসের পাশাপাশি চাহিদা ও উৎপাদন কাছাকাছি থাকায় সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা । শুধু তাই নয়, কৃষকদের সবজি চাষে আগ্রহী করতে মাঠ দিবসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা । একারণে এ বছর সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।
অথচ এক সময় ধান চাষে নির্ভরশীল এ অঞ্চলের কৃষকরা। কম খরচে অল্প সময়ে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় ধানের পাশাপাশি আগ্রহ বাড়ছে সবজি চাষাবাদে। আর তাই সবজি ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৩৮ হাজার ৭শ’ ৩৬ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। যা এই মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৯ হেক্টর বেশি। এবছর রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয়েছে রংপুরে।
চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের পাঁচ জেলার রংপুরে ১২ হাজার ৫শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধাতে ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ৮৬১ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৬ হাজার ৪শ’ হেক্টর এবং নীলফামারী জেলায় ৫ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৭৩ ভাগ বেশি উৎপাদন।
পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের কৃষক নুর হোসেন ও কৃষক হালিম মামুদ জানান, আগে তারা শুধু ধান চাষে নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু গেল কয়েক বছর ধরে ধানের পাশাপাশি সবজিও আবাদ করছেন। কম পরিশ্রম ও অল্প পুঁজিতে ভালো ফলন এবং দাম ভালো পাওয়ায় সবজির চাষাবাদ দিন দিন বাড়ছে।
বর্তমানে শুধু সবজি চাষ করে রংপুর অঞ্চলের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে দাবি মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষক আলী আহমেদের । এখনকার অনেক কৃষকই এখন ঝুকছেন সবজি চাষে । কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অল্প সময়ে ফসল তোলার পাশাপাশি সবজি চাষে রোগবালাই ও লোকসানের শংকা কম ।
এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, শুধু কৃষি জমিতে নয় পতিত জমি, বাড়িতে এবং ছাদে সবজি চাষাবাদে কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সাথে গ্রামে কৃষকদের সবজি চাষে আগ্রহী করতে মাঠ দিবসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হাসান সারোয়ার বলেন, শস্য বিন্যাসের পাশাপাশি চাহিদা ও উৎপাদন কাছাকাছি থাকায় কৃষকরা সবজিতে ভালো দাম পাচ্ছেন। এখন বাজারে সবধরণের ফসলের উৎপাদন সমান হওয়া এই অঞ্চলের কৃষকরা আগের তুলনায় সবজি আবাদে ঝুঁকে পড়ছে।
অন্যদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় দুই হাজার হেক্টর কম জমি সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আবাদ বেশি হয়েছে। চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রা ৩৭ হাজার ৭শ’ ৭ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ৭শ’ ৩৬ হেক্টর জমিতে।
এসময় তিনি বলেন, রবি মৌসুমে সবজি আবাদে কৃষকরা লাভবান হবে। কারণ এবার আবহাওয়া পুরোপুরি সবজি আবাদের অনুকূলে আছে। এখন বাজারে ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, টমেটোসহ শাক-সবজির দামও ভালো যাচ্ছে।
সানবিডি/এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













