স্কুল শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ১৬০০ কোটি টাকা

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-১৭ ১০:৪০:০৮


দেশের বিভিন্ন স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয় দুই বাড়ছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে স্কুল শিক্ষার্থীদের নামে ১৯ লাখ ৮০ হাজার হিসাব খোলা হয়েছে। এসব হিসাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। রবিবার স্কুল ব্যাংকিং এবং কর্মজীবী শিশু-কিশোদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা সংক্রান্ত সভায় এ তথ্য দেয়া হয়। বৈঠকে আসছে মুজিববর্ষে স্কুল ব্যাংকিংয়ের নতুন পণ্য চালু করা এবং বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয়ভাবে স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জোয়ারদার ইসরাইল হোসেন। বৈঠকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগের ফোকাল কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জোয়ারদার ইসরাইল হোসেন বলেন, স্কুল ব্যাংকিং ও পথ ও কর্মজীবী শিশুদের একাউন্ট খুলতে ব্যাংকগুলোকে একটা টার্গেট থাকে। ওই টার্গেট ব্যাংকগুলো কতটা পরিপালন করতে সক্ষম হলো সেটা পর্যালোনার জন্যই তাদের সঙ্গে মিটিং করা হয়েছে। এ সময়ে তাদের বেশকিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিংয়ে হিসাব কমে গেছে। ওইসব ব্যাংকে এ বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মুজিববর্ষে স্কুল ব্যাংকিং নিয়ে নতুন কিছু করা যায় কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেকটি ব্যাংকে পথশিশুদের একাউন্ট খুলতে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে মুজিববর্ষে বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয়ভাবে স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স আয়োজনের ওপর জোর দেয়া হয়। ওই কনফারেন্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের উপর বিভিন্ন পেজেন্টেশন, উপহার হিসেবে মুজিবুর রহমানের বই দেয়ার বিষয়টিও আলোচনা হয়। এছাড়া বৈঠকে স্কুল ব্যাংকিংয়ের বিদ্যমান রিপোটিং ফরম্যাট সংশোধের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, খুদে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে চালু করা হয় স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনি বাণিজ্যিক ব্যাংকও পাচ্ছে আমানত। ওই আমানত বিনিয়োগ হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

২০১০ সালে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায় ২০১১ সালে। আর ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর স্কুল ব্যাংকিংয়ের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করা হয়। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে ‘চাইল্ড এ্যান্ড ইউথ ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল’র (সিওয়াইএফআই) ‘কান্ট্রি এ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয় বাংলাদেশ।

সানবিডি/এনজে