বিদেশ সরু চাল রফতানি প্রক্রিয়া শুরু
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২০-০২-১৭ ১৪:২০:১৯

বিভিন্ন খাদ্যের উদ্বৃত্ত অঞ্চল বগুড়ার কৃষক এখন চাহিদা মেটাতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) মোটা চাল এবং রফতানির জন্য চিকন কাটারিভোগ ও জিরাশাইল চালের (সরুচাল) উৎপাদন বাড়িয়েছে। হেক্টরপ্রতি চিকন চালের উৎপাদন উফশী মোটা চালের চেয়ে কিছুটা কম। তারপরও বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় কৃষক লাভবানই হচ্ছে। প্রতিমণ কাটারিভোগ ধান বিক্রি হয় ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা দরে। মোটা উফশী ধান বিক্রি হয় প্রতিমণ ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা দরে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের চিকন চালের চাহিদা বেশি থাকায় রফতানিকারকরা বাজার থেকে চিকন চাল বেশি সংগ্রহ করে। এদিকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযানে কৃষকরা যাতে মানসম্পন্ন আর্দ্রতার ধান সরবরাহ করতে পারে সে জন্য প্রত্যেক ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে ‘ময়েশ্চার মিটার’ দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে কৃষক দোরগোড়ায় আদ্রতার মাত্রা (সর্বনিম্ন ১৪ শতাংশ) জেনে ধান সরবরাহ করতে পারে। সরকার উন্নতমানের ধান চাল সংগ্রহে দুই শ’টি সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী একনেক বৈঠকে এই প্রকল্প অনুমোদনের আশা করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সম্প্রতি বগুড়ায় সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এক রফতানিকারক জানান, বিদেশে বাংলাদেশের চাল রফতানি শুরু হয়েছে বছর তিনেক আগে। প্রথমে মোটা চাল রফতানি হয়েছে সীমিত পরিমাণে। এখন চিকন বা সরু চাল রফতানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিদেশীরা বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর চাল আমদানির নিশ্চয়তা চায়।
কোন বছর রফতানি করতে না পারলে বিদেশীরা মুখ ঘুরিয়ে নেয়। যে কারণে কৃষকদের মোটা চালের পাশাপশি চিকন চাল উৎপাদনে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। এই বিষয়ে বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ বলেন, বগুড়া অঞ্চলে কাটারিভোগ চালের উৎপাদন আগের চেয়ে বেড়েছে। যার প্রমাণ মিলেছে গেল আমন মৌসুমে। ওই মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমি। মাঠপর্যায়ের কৃষক এর চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে আবাদ করে। যা ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টরেরও বেশি। আমন উৎপাদন হয়েছে : ধান আকারে প্রায় ১২ লাখ মেট্রিকটন। যা ভেঙ্গে চাল পাওয়া গেছে অন্তত ৭ লাখ মেট্রিকটন।
সরকারের ধানচাল সংগ্রহ অভিযানের যে টার্গেট ছিল বগুড়া তা শতভাগ পূরণ হয়েছে এমনটি জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম। সরকারীভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে মানসম্মত ধান চাল সংগ্রহে সারা বছর চালু থাকে এমন মিলারদের (চালকল) কাছে থেকেই সংগ্রহ করা হবে। খোঁজ খবর করে দেখা হবে সংগ্রহ অভিযানের আগে যাদের চালকল এক বছর বন্ধ ছিল তাদের তালিকাভুক্ত করা হবে না। অতীতে দেখা গেছে সারা বছর বন্ধ রেখে সংগ্রহ অভিযানের আগে চালকল চালু করে সুযোগ নিয়ে কৌশলে মোটা চাল পালিশ ও চকচকে করে ‘বাঁকা পথে’ সরবরাহ করা হয়। তারা কম শুকনো ধান (মানসম্মত নয়) একইভাবে সরবরাহ করে। যা গুদামে রাখার পর ভাল মানের ধানচালের ক্ষতি হয়।
সরকারীভাবে আরেকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে- আগামী বোরো সংগ্রহের আগেই দেশের সব লোকাল স্টোরেজ ডিপো (এলএসডি) ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। যাতে গুদামে খাদ্যশস্য রাখার সময় কোন অনিয়ম না হয়। আগামী বোরো মৌসুমে দেশের সব উপজেলায় ডিজিটাল এ্যাপে কৃষক নিবন্ধন করা হবে। গেল আমন মৌসুমে ১৬ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক এ্যাপ নিবন্ধনে বড় ধরনের সফলতা এসেছে। চলতি বোরো মৌসুমে বগুড়ায় আবাদের টার্গেট করা হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬শ’ হেক্টর ভূমি। যা থেকে চাল আকারে উৎপাদন প্রত্যাশা করা হয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন। বোরোতেও উন্নত উফশী সরু চালের অধিক উৎপাদনের আশা করা হয়েছে।
সানবিডি/এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













