
বৈশ্বিক বাজারগুলোতে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে । এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির এ হার অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬০০ ডলারের মাইলফলক পেরিয়ে যেতে পারে। মূলত বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের জেরে অর্থনৈতিক শ্লথতা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের বাজারের প্রতি ঝুঁকেছেন। তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বেড়ে দামও বাড়তে শুরু করেছে। খবর রয়টার্স ও সিএনবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসে প্রতি আউন্স স্বর্ণের স্পটমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮৬ ডলার ৩২ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। দিনের শুরুতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠেছিল ১ হাজার ৫৮৬ ডলার ৯০ সেন্টে। ৩ ফেব্রুয়ারির পর এটাই স্বর্ণের সর্বোচ্চ স্পটমূল্য। শুধু স্পট মার্কেটে নয়, ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে এদিন মূল্যবান ধাতুটির দাম আগের দিনের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫৮৯ ডলার ৩০ সেন্টে।
লন্ডনভিত্তিক সিএমসি মার্কেটসের বিশ্লেষক মার্গারেট ইয়াং ইয়ান বলেন, বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্ক অর্থনৈতিক শ্লথতা তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে অর্থলগ্নিতে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতি স্বর্ণের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে অর্থলগ্নি করছেন অনেকেই। এ কারণে বাড়তে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম।
সম্প্রতি টেকজায়ান্ট অ্যাপল জানিয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চীনের কারখানাগুলোয় আইফোনসহ ইলেকট্রনিকস পণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিষ্ঠানটির আয় কমে আসতে পারে। এ তথ্য স্বর্ণের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
এ ব্যাপারে মার্গারেট ইয়াং ইয়ান বলেন, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। এতে স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা রয়েছে। তবে ডলারের সঙ্গে স্বর্ণের সম্পর্ক বিপরীতমুখী। মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম বাড়লে স্বর্ণের কমে যায়। তবে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। মুদ্রাবাজারে ডলারের মান আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তির দিকে রয়েছে স্বর্ণের দামও। এ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের চরম অনিশ্চয়তার প্রমাণ দেয়। বৈশ্বিক অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে রয়েছে—এটা জানান দেয়। এ কারণেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারের তুলনায় স্বর্ণে অর্থলগ্নি বাড়িয়েছেন।
সানবিডি/এনজে
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএসের বাজার কৌশলবিদ জনি তেভেজ বলেন, স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে তা আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৫৯০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক শ্লথতা দীর্ঘায়িত হলে শিগগিরই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর দামও বাড়তির দিকে ছিল। দিন শেষে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়াম বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫৩২ ডলার ৮০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। দিনের শুরুতে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়ামের দাম এক মাসের সর্বোচ্চে (আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৫৩৮ ডলার ২৫ সেন্টে) উঠেছিল।
এদিন রুপার দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১৭ ডলার ৮৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৭২ ডলার ৪০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।