তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কয়লার আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরোতে চায় ভারত। সম্প্রতি একটি কর্মশালায় দেশটির কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনিমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি বলেন, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা জোগান দেয়ার ক্ষেত্রে শিগগিরই ভারত স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে সরকার কয়লার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনতে চায়। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুজরাট প্রদেশে আয়োজিত দুদিনের কর্মশালার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার একটি সেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন। ‘চিন্তন শিবির’ নামে সরকারের একটি থিংকট্যাংক আয়োজিত ওই কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ভারতের কয়লা খাতের নানা সমস্যার সৃজনশীল সমাধান বের করতে চিন্তন শিবির কাজ করছে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তারা বৃত্তের বাইরে কিছু করার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানিতে ব্যবহূত কয়লা উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে কয়লা মন্ত্রণালয় ভারতীয় রেলওয়ে ও নৌপরিহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। কোল ইন্ডিয়া, ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক খনি কোম্পানিগুলো আগামী ১০ বছরের মধ্যে কয়লা স্থানান্তর সহজ ও সাশ্রয়ী করতে রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।
কর্মশালার একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের নির্ধারিত ১০০ কোটি টন কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরেকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে কোল ইন্ডিয়া ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ কোটি টন কয়লার সমান জ্বালানির টেকসই বিকল্প অর্জন করা যেতে পারে।
তবে মন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অংশীজনরা খুব একটা আশাবাদী হচ্ছেন না। তারা বলছেন, ভারতের কয়লা উৎপাদন কখনো সমস্যা ছিল না। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা অবকাঠামো।
ভারতের একজন ব্যবসায়ী বলেন, এটা একটা উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক বক্তব্য। অভ্যন্তরীণ খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা স্থানান্তর খুব ব্যয়বহুল, যেখানে রেল যোগাযোগ সীমিত। সে তুলনায় সমুদ্রপথে কয়লা আমদানি করা সাশ্রয়ী। তাছাড়া এখানে রেলপথে কয়লা পরিবহনের বেশির ভাগ প্রকল্পই ভারতীয় কোনো না কোনো কোম্পানির সঙ্গে যৌথ মূলধনি অংশীদারিত্বের। যেখানে বড় আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি এখানে নেই।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী বলেন, ভারতের কয়লা উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন তখনই সম্ভব হবে, যখন ভারত সরকার অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করবে। উৎপাদন এখানে কখনই বড় ইস্যু ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতীয় ট্রেডিং হাউজ ইমন রিসোর্সেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারত তাপবিদ্যুতের কয়লা আমদানি করেছে ১৮ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন। যেখানে রান্নার কয়লা আমদানি করেছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৪০ হাজার টন।
অবশ্য কোক কয়লায় (ধাতু গলানোর জ্বালানি) ভারত এখনো অনেকখানিই আমদানিনির্ভর। কোক কয়লা আমদানিকারক এক ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, এর প্রধান কারণ অভ্যন্তরীণ খনি থেকে উৎপাদিত কোক কয়লার গুণমান যথেষ্ট ভালো নয়। তিনি বলেন, স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য বড়জোর একটি নীতি হতে পারে। সরকার তাপবিদ্যুতের কয়লা আমদানিতে বিধিনিষেধ দেবে না বলেই তিনি মনে করেন। তাছাড়া এ ধরনের নীতি কোক কয়লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে কোক কয়লা আমদানির বাজারে বৈচিত্র্যের দিকে নজর দিচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে সরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মোজাম্বিক ও রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস