জাফরান চাষে জিআই দাবি কাশ্মীরি কৃষকদের
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-২৩ ১৫:৫৮:৩৫

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চল মানসম্মত জাফরান চাষের জন্য বিখ্যাত। তবে বিভিন্ন কারণে এ অঞ্চলে মূল্যবান মসলাপণ্যটির অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পণ্যটির সুদিন ফেরাতে জিওগ্রাফিক ইন্ডিকেশন (জিআই) চাইছেন দেশটির জাফরান চাষীরা। তাদের দাবি, জিআই ট্যাগ পেলে কাশ্মীরে উৎপাদিত জাফরানের গুণগতমান রক্ষার মাধ্যমে হারানো দিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার কাশ্মীরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল আবহাওয়া, ইরান থেকে তুলনামূলক সস্তায় আমদানি, ক্ষেতে পানিসেচের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, সেকেলে চাষ পদ্ধতি কাশ্মীরের জাফরান উৎপাদন হ্রাসের সবচেয়ে বড় কারণ। গত ২২ বছরে এ অঞ্চলে মূল্যবান মসলাপণ্যটির উৎপাদন ৬৫ শতাংশ কমেছে। ২০১৮ সালে এ অঞ্চলে সব মিলিয়ে ৫ দশমিক ৬ টন জাফরান উৎপাদন হয়েছে। অথচ ১৯৯৬ সালে পণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৬ টন। অর্থাৎ ২২ বছরের ব্যবধানে কাশ্মীরে পণ্যটির উৎপাদন ১০ দশমিক ৪ টন কমেছে।
জাফরানের বৈশ্বিক বাণিজ্যে কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী ইরান। জাফরান এমনিতেই পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল মসলা। এর মধ্যে আবার অন্যগুলোর তুলনায় কাশ্মীরি জাফরানের মূল্য বেশি। এ অঞ্চলের প্রতি কেজি জাফরানের বর্তমান মূল্য গড়ে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ রুপি। অন্যদিকে ইরানে উৎপাদিত জাফরান কাশ্মীরের থেকে ৪৮ শতাংশ কমে বিক্রি হয়। তবে ইরানে পণ্যটির উৎপাদনও হয় ব্যাপকভাবে। বৈশ্বিক বাজারে ইরানে উৎপাদিত জাফরানের হিস্যা ৯৫ শতাংশ। এ কারণে ইরান থেকে কম দামে অধিক জাফরান আমদানি হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এক্ষেত্রে কৃষকরা যে সমস্যাটি দেখছেন তা হলো, সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনটা কোন অঞ্চলের জাফরান, তা বোঝা বেশ কঠিন। উচ্চ গ্রেডের কাশ্মীরের জাফরানের সঙ্গে ভেজাল মেশানো হচ্ছে। ইরানে উৎপাদিত তুলনামূলক সাশ্রয়ী জাফরানের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে পণ্যটির সুনাম যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় কৃষকদের এ খাতে মুনাফা কমে যাচ্ছে।
ইরানে যে সকল জাফরান উৎপাদিত তার তুলনায় অধিক মানসম্মত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কাশ্মীরি জাফরানের বেশ চাহিদা রয়েছে। ফলে ভারতের চাষীরা প্রত্যাশা করছেন, জিআইসহ সরকারের যথাযথ উদ্যোগ পেলে কাশ্মীরের এ মূল্যবান মসলাপণ্যটির খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
সানবিডি/এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













