বিটিআরসি’র পাওনা ১০০০ কোটি টাকা দিল গ্রামীণফোন

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-২৩ ১৬:১৯:৫৫


অডিট আপত্তিতে বিটিআরসির পাওনা দাবি ইস্যুর সুরাহা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অবশেষে ১০০০ কোটি টাকা জমা করেছে গ্রামীণফোন।রোববার দুপুরে রাজধানীর রমনায় বিটিআরসি কার্যালয়ে ১০০০ কোটি টাকার পে-অর্ডার নিয়ে যান গ্রামীণফোনের ডাইরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত। সঙ্গে ছিলেন অপারেটরটির আরও কয়েকজন কর্মকর্তাও।

বিটিআরসির পক্ষে এই টাকা গ্রহণ করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক। এ সময় বিটিআরসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রামীণফোন টাকা জমা দেয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, অপারেটরটি আদালতের পরবর্তী নির্দেশও এভাবে পালন করবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘গ্রামীণফোনের জন্য আলোচনার দরজা খোলা, এটি সবসময়ই ছিল। আমরা দেশে ব্যবসার স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। তারাসহ সবাই যেন সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারে’গ্রামীণফোনের দেয়া এই ১০০০ কোটি টাকা যখন বিটিআরসির পাওনা দাবির অংক ‘স্যাটেলড’ হবে তখন সেই অংকের সঙ্গে হয় সমন্বয় করা হবে।এখন এই টাকা জমা দেয়া হয়েছে গ্রামীণফোনের রিভিউ আবেদনে ‍আপিল বিভাগের নির্দেশে।

আপিল বিভাগ বিটিআরসিকে ১০০০ কোটি টাকা দিয়ে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আবার আদালতে আসতে বলেন। আদালত এদিন  পরবর্তী আদেশ দেবেন বলেন জানান। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এই আদেশ দিয়েছিলেন।

এরআগে আপিল বিভাগের রায়ে সোমবারের মধ্যে (২৪ ফেব্রুয়ারি)গ্রামীণফোনকে ২০০০ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। পরে গ্রামীণফোন সেই রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি রিভিউ আবেদন করে।রিভিউ আবেদনে অপারেটরটি ৫৭৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করে, যা তারা এক বছরে সমান বারোটি কিস্তিতে পরিশোধ করতে চাইছিল তারা। তবে আবেদনে ওই প্রস্তাব আমলে নেয়নি উচ্চ আদালত।

এখন ১০০০ কোটি টাকা জমা দিয়ে যাওয়ার পর সোমবার আদালত এই রিভিউ আবেদনে যে আদেশ দেবেন তা যদি গ্রামীণফোন পালন করে তাহলে অপারেটরটি এনওসি বন্ধের মতো নিষেধাজ্ঞা হতে মুক্তি পাবে।সেইসঙ্গে অডিট আপত্তির পাওনা দাবি ইস্যু সমাধানে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

অডিট আপত্তিতে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে মোট ১২ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা হিসেবে দাবি করে।

এর মধ্যে বিটিআরসির অংশ ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি আর এনবিআরের অংশ ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা।বিটিআরসির পাওনা দাবিকৃত ৮ হাজার ৪৯৪ কোটির টাকার মধ্যে মূল টাকা হলো ২ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। বাকি ৬ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা বিলম্ব ফি, যেটি মূল টাকার ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে হিসাব করা হয়েছে। সুত্র-টেকশহরডটকম

সানবিডি/এনজে