বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সংযোগে বিনিয়োগ করতে চায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। গতকাল ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘বিমসটেক অঞ্চলে জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
বিমসটেক ও সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ইনিশিয়েটিভ ফর এনার্জি ইনটিগ্রেশন (এসএআরআই/ইএ) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। বিমসটেকের সাত সদস্য দেশ এবং অন্যান্য দেশের আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা দুই দিনের সম্মেলনে চারটি কর্ম-অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, এডিবি ও এআইআইবি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিডে বিনিয়োগ করতে চায়। এ খাতে আমাদের এখন বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ না হলে এসব কথা শুধু কথাই রয়ে যাবে। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এভাবে যদি একে অন্যের পরিপূরক হতে পারি, তাহলে বিদ্যুৎ সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার ও লোড ফ্যাক্টর ইউটিলাইজেশনের পাশাপাশি আমাদের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দামও কমবে।
এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিড পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হলে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি-রফতানির দ্বার উন্মুক্ত হবে মন্তব্য করে তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, নেপাল থেকে যদি আমরা জলবিদ্যুৎ আনি তাহলে বর্ষা-গ্রীষ্মের সময় যখন আমাদের চাহিদা বেশি থাকবে তখন আমরা সে চাহিদা মেটাতে পারব। আবার শীতে নেপালের উৎপাদন কম, শীতে ওদের প্রয়োজন বেশি হয়। কাজেই আমরা তখন ওখানে আমাদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রফতানি করতে পারব।
আঞ্চলিক গ্রিডের স্থিতি ও স্থায়িত্বের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা চাই, আমাদের শিল্প-বাণিজ্যে মানসম্মত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ভোল্টেজ ভালো হবে, বিদ্যুৎ বাধাগ্রস্ত হবে না। আঞ্চলিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের উপায় ঠিক করার পাশাপাশি উৎপাদনে বিনিয়োগের পথ উন্মোচনের আহ্বান জানান তৌফিক-ই-ইলাহী।
বিমসটেক মহাসচিব এম শহীদুল ইসলাম বলেন, গ্রিডের আন্তঃসংযোগের ফলে বিভিন্ন দেশ তার প্রয়োজনে আমদানিও করতে পারবে, রফতানিও করতে পারবে।
সঞ্চালন ও বিতরণের আলোচনার পাশাপাশি উৎপাদনের বিষয়ে কর্মপন্থা ঠিক করার আলোচনা চলছে জানিয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন, গ্রিড ইন্টারকানেকশন যদি আঞ্চলিকভাবে বড় ধরনের হয়, তাহলে এখানে বিদ্যুৎ ?উৎপাদনে বিনিয়োগ সহজ হবে। এ অঞ্চলের মধ্য থেকে বিনিয়োগ আসতে পারে, বাইরে থেকেও আসতে পারে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে ‘বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি শিগগিরই প্রথম বৈঠকটি করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম বৈঠকটি হলে তারা বুঝতে পারবেন এখানে কী কী করতে হবে। নতুন ট্রান্সমিশন লাইনের প্রয়োজন থাকতে পারে, এমন হতে পারে যে ট্রান্সমিশন লাইন আছে, কিন্তু আইনকানুনের এবং টেকনিক্যাল হারমোনাইজেশন দরকার, সেটার ওপর তারা জোর দিতে পারে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস