চাঁদপুরের চাঁদমুখ মুহাম্মদ ফরিদ হোসাইন পাটওয়ারী। ভালো ফলাফলের জন্য পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক। পদক গ্রহণ করার পরের দিনই মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে যোগ দিলেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাও আবার ফিন্যান্স বিভাগে। চাঁদপুরের গর্ব ফরিদ। আগামী প্রজন্মের স্বপ্নের সারথি মুহাম্মদ ফরিদ হোসাইন পাটওয়ারী।
উল্লেখ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স স্তরে বিভিন্ন অনুষদে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম স্থান অধিকারী ছাত্র-ছাত্রীকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর পদক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রতি বছর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আরও অধিক মনোনিবেশ করে ভালো ফল অর্জনে উৎসাহ প্রদানের জন্য ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রবর্তন করা হয়।
কে এই মুহাম্মদ ফরিদ: মুহাম্মদ ফরিদ হোসাইন পাটওয়ারীর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ গুনরাজদি জন্ম গ্রহণ করেছে তিনি। বাবা হলেন ব্যাংকার। আছেন চাঁদপুরের ফরাজি কান্দি সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে। মা আছেন দেশের প্রথম শ্রেণীর বীমা কোম্পানি পপুলার লাইফে। মা-বাবার তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে প্রথম ফরিদ। বাকী দুই বোনের একজন আছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে। অন্যজন আছেন চাঁদপুরের অন্যতম প্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমী চাঁদপুর।
পড়াশুনা: মুহাম্মদ ফরিদ হোসাইন পাটওয়ারী দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন নিজ এলাকায়। এর পর তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত চাঁদপুরের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হাসান আলীতে। এর পর ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে এসএসসি পর্যন্ত আল-আমিন একাডেমী চাঁদপুর। অষ্টম শ্রেণীতে পেয়েছে বৃত্তি। এর পর মেধাবী ফরিদ এসএসসিতে পেয়েছেন গ্রেট পয়েন্ট অ্যাভারেজ (জিপিএ) ফাইভ। এরপর ভর্তি হন দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান নটর ডেম কলেজে। সেখানেও এইচএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ ফাইভ। তার পর আবারও শুরু হয় ভর্তি পরীক্ষার সংগ্রাম। সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় ৫৬তম স্থান দখল করেন তিনি। ভর্তি হন ফিন্যান্স বিভাগে। বরাবরের মতো এখানেও রাখের কৃতিত্বের স্বাক্ষর। অনার্সে আর্জন করেন প্রথম স্থান। সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে পান ৩.৯৭ পয়েন্ট। এমবিএও অর্জন মেধা তালিকায় প্রথম। এখানে আরেকটু এগিয়ে সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে পান ৩.৯৮ পয়েন্ট। ফলে অর্জন করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক।
স্বপ্ন: মুহাম্মদ ফরিদ হোসাইন পাটওয়ারী সানবিডিকে বলেন, শুরু থেকেই স্বপ্ন ছিলো মানুষ গড়ার কারিগর হওয়ার। আজ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওযার মাধ্যমে তা পূরণ হলো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী তিনি।
আগামীর দিনগুলো সুন্দর কাটুক তার। আর আগামী প্রজন্মের স্বপ্নের সারথি হয়ে থাকুক মুহাম্মদ ফরিদ হোসাইন পাটওয়ারী।