আসমা আক্তার প্রতিদিনের ন্যায় ঘরের কাজ শেষে পাঁচ বছরের মেয়েকে বস্তির ঘরে রেখে গিয়েছিলেন গার্মেন্টসে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় আগুন লাগার খবর পেয়েই দ্রুত ছুটে আসেন বস্তিতে। ততক্ষণে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল বস্তির শত শত ঘরে।
পাশের ঘরের আগুন দেখেও নিজের ঘরে ঢুকে সামান্য কিছু আসবাবপত্র বের করে নিয়ে ছুটে আসেন রাস্তায়। পরের বার আবারও ঘরের জিনিস আনতে ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে তার ঘরেও থাবা বসিয়েছে আগুন।
এমন হাজার হাজার মানুষ আগুনে পোড়া জিনিস নিয়ে বসে আছেন বস্তির চতুর্থ দিকের সড়কে। কেউ কেউ ঘরের খাট, টিভি, ফ্রিজ বের করে নিয়ে এসেছেন। কেউ কেউ আবার কিছুই বের করতে পারেন নাই।
আলম মুন্সি নামের এক বস্তিবাসী অনলাইনকে বলেন, ‘মা-বাবাসহ তিনটি ঘর ভাড়া নিয়ে আমরা বসবাস করতাম। এর মধ্যে একটি ঘরের কয়েকটা জিনিস শুধু বের করতে পারছি। আর দুইটি ঘরের সব জিনিসই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
দুই শিশুকে কোলে নিয়ে একটি ব্যাগ হাতে গালে হাত দিয়ে রাস্তায় বসে আছেন রাবেয়া নামের এক নারী। তিনি অনলাইনকে বলেন, ‘আমার স্বামী রিকশা লইয়া কামে গেছে। তাই আমি ২ বাচ্চা লইয়া ঘরের কিছুই বাইর করতে পারিনি।’
আরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই বস্তিতে নিম্নবিত্ত মানুষেরা বসবাস করে। এখন ঘরহীন হাজার হাজার মানুষকে ঘুমাতে হবে খোলা আকাশের নিচে।’
মিরপুরের রূপনগর বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুনে ইতিমধ্যে দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় রূপনগর বস্তিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের চেষ্টায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস