বাজেটে আমদানিতে শুল্কারোপ

একদিনেই কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০৬-১৪ ০৯:০৩:২২


সদ্য উত্থাপিত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে নিত্যপণ্যটির বাজার। দেশে ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে একদিনের মাথায় পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়া শুরু হয় বাজেট ঘোষণার পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার। তবে ওইদিন বাজারে বেচাকেনা কম থাকায় খুব একটা বেশি প্রভাব পড়েনি। সপ্তাহের প্রথম দিন হিসেবে গতকাল বাজারে বেচাকেনা ছিল বেশি। সকাল থেকেই পণ্যটির দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। বাজারে যে পেঁয়াজ সকালে কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বিকাল গড়াতেই তার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২৫-২৮ টাকায়।

জানা গিয়েছে, খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোয় বর্তমানে ভারতীয় নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে মানভেদে ইন্দোরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২২-২৮ টাকা দামে। নাসিকে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০-২৭ টাকায়। অথচ বৃহস্পতিবারও বাজারে ইন্দোরের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১২-২০ টাকা এবং নাসিকের পেঁয়াজ ১০-১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

একই সঙ্গে এ একদিনের মধ্যে দেশী পেঁয়াজের দামও বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত। গতকাল খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৩-২৫ টাকা দামে। অথচ বৃহস্পতিবারের বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের মূল্য ছিল ১৮-২০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা পরিস্থিতি ও রমজানের কারণে গত দু-তিন মাস মিয়ানমার ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলেও বাজারে বর্তমানে ওইসব দেশের পেঁয়াজ নেই।

এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের মেসার্স গোপাল বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী চন্দন কুমার পোদ্দার  বলেন, রমজানের মাঝামাঝি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল নিম্নমুখী। এ সময়ের মধ্যে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০-২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। তবে বাজেটে শুল্কারোপের পর পরই পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য কোনো কারণ নেই। মূলত আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণার পর পরই পণ্যটির দাম বেড়েছে। কারণ এরই মধ্যে স্থলবন্দরগুলোয় ৫ শতাংশ শুল্কারোপ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বাজারগুলোয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকার পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স টিএম এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তারেক হাসান বলেন, শনিবার থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আদায় শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে বন্দরকেন্দ্রিক বাজারগুলোয় আমদানীকৃত পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ৪-৫ টাকা। খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত আসতে আসতে এ দাম আরো বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গতকাল সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানীকৃত ইন্দোর ও নাসিকের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে শুল্কারোপের আগ পর্যন্ত ১৮-২২ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।

পাইকারিতে এ দরবৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে খুচরা বাজারেও। গতকাল দুপুর থেকেই চট্টগ্রামের খুচরা বাজারগুলোয় পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। এ সময় খুচরায় পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত। নগরীর কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানগুলোয় শুক্রবার পর্যন্ত খুচরা পর্যায়ে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০-২৮ টাকার মধ্যে। কিন্তু গতকাল বিকাল থেকে প্রায় সব দোকানেই পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা।

এ বিষয়ে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, দেশী পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে আমদানীকৃত পেঁয়াজে শুল্কারোপ অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটিতে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হবে। বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

প্রসঙ্গত, পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্কারোপের ঘোষণা দেয়ার সময় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশে বর্তমানে প্রচুর পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে। কিন্তু আমদানীকৃত পেঁয়াজের শুল্ক না থাকায় দেশের চাষীরা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এতে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষের ক্ষেত্রে চাষীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। তাই দেশের পেঁয়াজ চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাষে উৎসাহ প্রদান এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্যে পণ্যটি আমদানিতে কিছুটা শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করছি।