সিমেন্ট শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দেওয়ার বিধান পুরোপুরি তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে আরোপিত শুল্ক্ক প্রতি টনে ৫০০ থেকে কমিয়ে ৩০০ টাকা নির্ধারণের অনুরোধ করেছেন তারা।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) সভাপতি আলমগীর কবির বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৩ শতাংশ অগ্রিম আয়কর চূড়ান্ত দায় হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ খাতকে সম্পূর্ণ অনীহার দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। দেশের ব্যবসাবান্ধব নীতি অনুসারে এমন কর আরোপ হতে পারে না। তিনি সরকারের কাছে এ কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
বিসিএমএ সভাপতি বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সিমেন্ট খাতে এখন মুনাফা করার সুযোগ নেই। এরপরও এআইটি চূড়ান্ত দায় হিসেবে দেখিয়ে অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তাদের পুঁজি হারাতে হচ্ছে। ফলে অচিরেই মূলধন সংকটে পড়বে ছোট-বড় প্রায় সব কোম্পানি। তখন অনেক বেশি ক্ষতি হবে দেশের। তাছাড়া প্রতি টন কাঁচামাল আমদানিতে ৫০০ টাকা শুল্ক্ক হিসেবে ১৪ শতাংশের বেশি টাকা সরকারকে দিতে হয়। এত বেশি শুল্ক্ক এ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ শুল্ক্কও কমানোর দাবি জানান।
আলমগীর কবির সিমেন্ট খাতের নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ব্যবসায়ীরা আয় করলে কর দেবে। করোনা সংক্রমণের পর থেকে গত কয়েক মাস প্রায় প্রতি কারখানায় ৯০ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ ছিল। এখনও ৬০ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। করোনা দুর্যোগে তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর বিরূপ প্রভাব নির্মাণ খাতেও পড়েছে। এ অবস্থায় এখন আয় না করেও কর দিতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় আগাম কর নেওয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে বিসিএমএ সভাপতি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সিমেন্ট খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা এ খাত থেকে সরকারি কোষাগারে শুল্ক্ক-করের মাধ্যমে জমা হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর ১৫ বছর ধরে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে উদ্যোক্তারা আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন। দেশে নির্মাণ কাজ নেই বললেই চলে। ফলে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। অথচ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য নিয়মিত খরচও প্রতিনিয়ত চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অর্থাৎ পরিচালন খরচ কমেনি। তাছাড়া কাঁচামাল শতভাগ আমদানিনির্ভর হওয়ায় এ পর্যন্ত যত এলসি খোলা হয়েছে সেগুলোও এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক থেকে যে চলতি মূলধন নেওয়া হয়েছে তার সুদ এবং আসল চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে চলেছে।
সংগঠনের সহসভাপতি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, নূ্যনতম ৭০ শতাংশ উৎপাদনে না থাকলে একটি কারখানা ঠিকভাবে আয় করতে পারে না। এমন অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোকসান দিয়ে কারখানা চালাতে হয়। অথচ মুনাফা না করেও কর দিতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান।