ব্যাংকের ঋণ নিতে লাগবে ব্যবসায়ের ভ্যাটের তথ্য
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০৬-২১ ১২:১৮:৫১

কোম্পানি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে ভ্যাট অফিসে ক্রয়-বিক্রয়ের যে তথ্য দেয় তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত তথ্য গোপন করে কম বিক্রয়ের তথ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। এ ধরনের ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে এবার ব্যাংকের শরণাপন্ন হচ্ছে রাজস্ব বিভাগ। কোনো কোম্পানি কিংবা ব্যবসপ্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ভ্যাট রিটার্নে দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা জারি করা হচ্ছে। এর ফলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া যেমন আটকে যাবে, সেই সঙ্গে কম বিক্রয়ের তথ্য দিয়ে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার পথও বন্ধ হবে বলে মনে করছে ভ্যাট বিভাগ। সূত্র জানিয়েছে, ঋণ অনুমোদনকালে প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট রিটার্নে দেওয়া তথ্য যাচাইয়ে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যবাধকতায় আনতে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ঐ চিঠিতে বলা হয়, ঋণ বিবেচনার সময় ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিটার্ন পরীক্ষাকালে কোনো অসংগতি পেলে তা তাত্ক্ষণিক ভ্যাট গোয়েন্দা অফিসকে অবহিত করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ব্যাংক কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন। ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের কাছে এ চিঠি পাঠিয়েছেন।
অবশ্য ব্যবসায়ীরা এর ফলে নতুন করে হয়রানির বাড়ার আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে যারা নতুন করে ব্যবসা শুরু করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে বাধ্যবাধকতায় আনা যাবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান।
ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ক্রয় বিক্রয়ের হিসাব পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিসে জমা দিতে হয়। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন (ই-বিআইএন) নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
এর মধ্যে মোবাইল ফোন, তামাকজাত পণ্য, সিমেন্ট খাতের প্রায় ২০০ বড়ো কোম্পানিও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভ্যাট আদায় হয়। তবে এনবিআর মনে করছে, নানা কায়দায় কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকিও দিচ্ছে। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিলকালে কম বিক্রয় দেখানো অন্যতম।
ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া কিংবা মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। একই সঙ্গে অডিট ফার্মগুলোর মিথ্যা তথ্য দেওয়াও বন্ধ হবে। তাদের এই অনুরোধ ব্যাংকগুলো পরিপালন করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের দায়ী থাকতে হবে।
বর্তমানে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর ও কর পরিশোধের সনদ, ভ্যাট নিবন্ধন বা ই-বিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসায়ের স্থায়িত্বকাল, লেনদেনের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনসহ বেশ কিছু ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। তবে এ তালিকায় ভ্যাট রিটার্নের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অবশ্য এমন উদ্যোগকে ব্যাংকাররা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম সারির একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সবকিছুই একটি পদ্ধতির মধ্যে আসা দরকার, যাতে অনিয়ম রোধ করা যায়। তবে এতে গ্রাহক হয়রানি কিংবা ব্যাংকিংয়ে নিরুত্সাহিত হবে কি না, সেটিও ভেবে দেখতে হবে।
যোগাযোগ করা হলে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ ধরনের কোনো তথ্য তারা এখনো পাননি।
সানবিডি/এসকেএস







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













