

জেলায় সবিতা খানম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার সীমাখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ ওই গ্রামের বাস চালক কয়েজ বেগের স্ত্রী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
নড়াইল সদর উপজেলার সীমাখালী গ্রামের ওহাব বেগের ছেলে কয়েজ বেগের সঙ্গে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি থানার ধানকুড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির মেয়ে সবিতা খানমের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে সামিয়ার বয়স ৫ বছর এবং ছোট মেয়ে নাঈমার বয়স ৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রী সবিতার সঙ্গে স্বামীসহ পরিবারের লোকজনের কলহ চলছিল।
পার্শ্ববর্তী পংকবিলা গ্রামের রাসেল সিকদার জানান, তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। সীমাখালী ফেরীঘাটে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন বলে চিৎকার শুনে লোকজনের সঙ্গে আমিও এগিয়ে যাই। তখন পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। তবে সবিতার শ্বশুর বাড়ির কাউকে দেখা যায়নি।
অগ্নিদগ্ধ সবিতা সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। এ সময় তিনি জানান, তার স্বামী কয়েজ বেগ, শাশুড়ি রহিমা বেগম ও ননদ তাকে প্রায় নির্যাতন করত। তাকে বিভিন্ন সময়ে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিবেশী টিপু জানান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারে বিবাদ লেগে রয়েছে। সবিতা নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলত এ নিয়ে কলহ চলছিল।’ অভিযুক্ত কায়েজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মশিউর রহমান বাবু জানান, অগ্নিদগ্ধ সবিতাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বার্ন ইউনিটে নেয়া প্রয়োজন।
সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কাশেম জানান, সবিতাকে পারিবারিক কলহের কারণে তার শাশুড়ি রহিমা বেগম, ননদসহ পরিবারের লোকজন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।