আর কয়েকদিন পরেই পবিত্র্র ঈদুল আজহা।চীন থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে এই ধর্মীয় উৎসব পালিত হবে। ফলে গত কয়েক বছর লোকসানে থাকা দেশীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সংকট আরো বেড়েছে। এতে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় মৌসুম ঈদে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কতটা তাঁরা সংগ্রহ করতে পারবেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা করোনায় সৃষ্ট মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও টিকে থাকতে সরকারের কাছে অতি দ্রুত আর্থিক ও নীতি সহায়তার দাবি করেছেন। চামড়া ব্যবসা গতিশীল রাখতে তাঁরা সাভার চামড়া শিল্প নগরীর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করারও তাগাদা দিয়েছেন।
দেশের বেশির ভাগ ট্যানারি নিয়ে গড়ে উঠেছে সাভার চামড়া শিল্প নগরী। প্রতিবছর কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার ৯০ শতাংশই এসব ট্যানারিতে সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া থেকে পাওয়া কঠিন বর্জ্য সংরক্ষণ ও শোধনে এখানকার ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ এখনো চলছে। এ ছাড়া এখানকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক ঘন লিটার হলেও গত বছর ঈদুল আজহায় তা বেড়ে প্রায় ৪৫ হাজার কিউবিক ঘন লিটার বর্জ্য হয়। এবারেও বর্জ্যের পরিমাণ ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হবে বলেই ধারণা করা হয়েছে। এতে শিল্পনগরীর পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আসন্ন ঈদে সব সমস্যার সমাধান করে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে সুষ্ঠুভাবে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, আর্থিক সংকটে থাকা ট্যানারির মালিকদের কাঁচা চামড়া কিনতে এবার চাহিদা মতো ঋণ দেওয়া হয়নি। আর্থিক সংকটে ঈদে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। বর্তমানে চামড়াশিল্পের ভয়াবহ লোকসান চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবার ঈদের আগেই জরুরি ভিত্তিতে চামড়াশিল্পের সহায়ক নীতি এবং আর্থিক সহায়তা এখন সময়ের দাবি।
সানবিডি/এনজে