যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতি যেন ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।সংক্রমণে বাড়ছে রোগী। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। গত বছরের শেষের দিকে বিশ্বে প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়। এর সাত মাস না যেতেই গত শুক্রবার এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড দেখে বিশ্ববাসী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই রেকর্ডও ভেঙেছে। শনিবার বিশ্বজুড়ে একদিনে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। পর পর দুদিন রেকর্ডসংখ্যাক নতুন কভিড-১৯ রোগী শনাক্তের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যেসব দেশ এরই মধ্যে করোনা জয়ে সফলতা দেখিয়েছে, তারাও এখন সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় ভুগছে। খবর রয়টার্স ও সিএনবিসি।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিশ্বজুড়ে ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৩ জনের শরীরে নতুন করে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ওই দিন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্তের এটাই সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। তবে একদিনের ব্যবধানে আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে শনিবার নতুন শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৮। নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের বেশির ভাগ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এই চারটি দেশের।
শুধু একদিনে নতুন শনাক্তের ক্ষেত্রে রেকর্ড হয়নি, বরং বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও আগের তুলনায় বেড়েছে। শনিবার ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৭ হাজার ৩৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। গত ১০ মের পর বিশ্বজুড়ে এটাই এক দিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। সংস্থাটি বলছে, চলতি বছরের জুন মাসে বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৬০০ জন মারা গেছে। জুলাইয়ে করোনায় মৃত্যুর বৈশ্বিক গড় বেড়ে দাঁড়িড়েছে ৪ হাজার ৮০০ জনে। এ পরিসংখ্যান থেকে করোনার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আঁচ করা যায়।
বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের হালনাগাদ তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ২৩৯। এ সময় পর্যন্ত কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার ৮৬৫ জনের।
চলমান করোনা মহামারীতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিদিনই দেশটিতে নতুন শনাক্তের সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৮৪। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে সর্বমোট ৩৭ লাখ ১২ হাজার ৬০৪ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ লাখ ৪০ হাজার ১২০ জন। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বের বুকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে।
ব্রাজিলেও করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৪৫ হাজার ৪০৩ জনের শরীরে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬০। দেশটিতে করোনায় সব মিলিয়ে ৭৮ হাজার ৭৭২ জন মারা গেছে।
তৃতীয় দেশ হিসেবে ১০ লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ভারতে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ৮৮৪ জনসহ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে শনাক্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮১। ভারতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৬ হাজার ৮১৬ জন। দক্ষিণ আফ্রিকায়ও একদিনে সবচেয়ে বেশি ১৩ হাজার ৩৭৩ জনের শরীরে নতুন করে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৯। মারা গেছে ৪ হাজার ৯৪৮ জন।
এ ব্যাপারে ডব্লিউএইচও এক নোটে জানিয়েছে, ইউরোপে করোনা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। আফ্রিকায় নতুন সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে মহামারী পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়। এখন থেকে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনগুলোয় এসব অঞ্চলে করোনা সংক্রমণে লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ডসহ যেসব দেশ এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণে লাগাম টানতে সফল হয়েছে তাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার অবকাশ নেই। যেকোনো সময় সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে আগের অর্জন ভেস্তে যেতে পারে।
সানবিডি/এনজে