
ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে আগামী বুধবার (২৯ জুলাই) ঘোষণা করা হবে নতুন মুদ্রানীতি। এবারের মুদ্রানীতিকে বলা হবে প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতি সহায়ক।
বরাবরের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করে আগামী ২৯ জুলাই বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতি বিষয়ক প্রকাশনাটি প্রকাশের বিষয়ে ভাবছেন সংশ্নিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ৬ মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করত। গত অর্থবছর থেকে একবার করে ঘোষণা করা হচ্ছে। সাধারণত সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা জানান, অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে নানা কর্মসূচি নিয়েছে। বিশেষ করে প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র, মাঝারি, বড়সহ সব ধরনের শিল্প, কৃষিসহ সব পর্যায়ে উৎপাদন ঠিক রাখতে ঋণ জোগান বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় কম সুদে ঋণের জন্য কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এসব তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান ঠিক রাখা অন্যতম লক্ষ্য। এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার নির্ধারিত ৮ দশমিক ২০ শতাংশের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন এবং মূল্যস্টম্ফীতি ৫ দশমিক ৪০ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর প্রাক্কলন করা হবে নতুন মুদ্রানীতিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত অর্থবছরের মুদ্রানীতির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে অর্জিত হয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ হার যে শুধু করোনাভাইরাসের প্রভাবে কমেছে, তা নয়। গত অর্থবছরের শুরু থেকেই ঋণ প্রবৃদ্ধিও ছিল কমতির দিকে। সরকার নির্ধারিত ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্টম্ফীতি ৫ দশমিক ৫০ শতাংশে পরিমিতি রাখার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। তবে করোনার কারণে অর্থবছরের শেষ তিন মাসে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সরকার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সংশোধন করে নির্ধারণ করেছে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ।