বরিশালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আভাস আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভা
প্রকাশ: ২০১৫-১২-১০ ২০:৩৩:২৩

বরিশাল মহানগরীতে বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আভাস বাস্তবায়িত এলএইচডিপি প্রকল্পের আয়োজনে অক্সফ্যামের আর্থিক সহযোগিতায় গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পেইন কর্মসূচির শেষ দিন ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপন উপলক্ষে সকাল ১০টায় বরিশাল অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বরিশালের তৃণমূল পর্যায়ের নারী নেত্রী, মিডিয়া পারসন, সিভিল সোসাইটির ব্যক্তি, নারী আড্ডা দলের সদস্য এবং এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মানবাধিকার জোটের সভাপতি ড. হাবিবুর রহমান। মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আক্কাস হোসেন, আভাস’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এসএম সিরাজুল ইসলাম, নাসরিন আকতার, এ্যাড. হিরণ কুমার দাস মিঠু, বিএনডিএন’র সম্পাদক রণজিৎ দত্তসহ আরও অনেকে। বক্তারা নিম্নরূপ বক্তব্য ও সুপারিশ করেন-
- আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে শিশু অধিকার রক্ষায়। নিজের পরিবার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, নজর দিতে হবে একটি শিশুও যেন অযত্ন অবহেলার শিকার না হয়। জাতির সোনালী ভবিষ্যতের স্থপতি শিশুরাই। তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে, জায়গা করে দিতে হবে তা কাজে লাগানোর। তবেই না সুন্দর হবে সমাজ, সুন্দর হবে দেশ।
- বরিশাল বিভাগে ১৮ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক মাত্র একজন। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। চালু যখন হলো, তখন সেখানে চিকিৎসক মেলে না। গাইনি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই বলে বরিশালের অনেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারই করা যায়না। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের সব হাসপাতাল ও সেবাকেন্দ্রে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবলের ঘাটতি দূর করার জন্য শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে। যে চিকিৎসকেরা পদাধিকার করেও দায়িত্ব পালনে বড় শহরের বাইরে যাবেন না, তাদের জায়গায় আগ্রহীদের বসানো হোক।
- ৮৫ ভাগ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসা, বৈষম্য ও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষ, জেন্ডার নিরপেক্ষ সমাজ গঠন করতে হবে। নারীমুক্তি আজ কেবল নারীর মুক্তি নয়, এর সঙ্গে মানবিকতার মুক্তির প্রসঙ্গটিও জড়িত।
- দেশের কর্মজীবী নারীরা ভালভাবে দাঁড়াতে পারছে না। তাদেরকে দাঁড়ানোর জন্য পারিবারিকভাবে তাদের কাজের মূল্যায়ন হতে হবে। পরিবার থেকে নারীদের মনোজগতের পরিবর্তন আনতে সহযোগিতা করা দরকার।
- পুরুষতন্ত্রকে ধাক্কা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। ঘরে-বাইরে সবখানেই নারীরা কাজ করে। পুরুষদের চাকরি জীবনের অবসর আছে, নারীর কোনো অবসর নেই। নিজের অধিকার আদায়ের জন্য নারীদের সংগ্রাম করতে হবে।
- দেশে নারী-পুরুষের বৈষম্য বাড়ছে। মধ্য আয়ের দিকে যখন দেশ যাবে তখন এটা আরো বাড়বে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় নারীর ক্ষমতায়নের কথাই বলি। কিন্তু সেখানে নারীর সাইকোলজিক্যাল, সোশ্যাল বিষয়গুলো আসেনা। নারীমুক্তির সংজ্ঞাগুলো নির্ধারণ করতে গেলে এই জায়গাগুলো মোটা দাগে চিহ্নিত করতে হবে। মৌলবাদের জন্য নারীরা এগোতে পারছে না। সংসারের ২১টা কাজের মধ্যে ১৭টা নারীরা করে। নারীর অধিকারের জন্য আমাদের লড়াই করে যেতে হবে।
- দেশে প্রায় ১০ লাখের মত পথশিশু শিশু এবং ৭০ লাখের মত শ্রমজীবি শিশু রয়েছে। এদের সকলের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সানবিডি/ঢাকা/রাআ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













