বালু ও শীতলক্ষ্যার পঁচা পানির দুর্গন্ধে ভোগান্তি চরমে

জেলা প্রতিনিধি || প্রকাশ: ২০২১-০৪-০৭ ২২:০৭:০৮ || আপডেট: ২০২১-০৪-০৮ ০৯:০৩:৪৪

বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দুটির পানি যেন আলকাতরা। দেখতে কালো এ পানির পঁচাদুর্গন্ধই এখন নদীপাড়ের লোকজনের ভোগান্তির কারণ। অথচ ২ যুগ আগেও এ শীতলক্ষ্যার পানি পান করতেন তারা।

কথিত আছে এ নদীর পানি পানে বারো মাসি রোগীও ভালো হয়ে যেত। নদীটি রাজধানী ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বের শহর নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে গাজীপুর হয়ে বহ্মপুত্রে মিলেছে। আবার রাজধানী ঘেষা ছোট নদী হিসেবে পরিচিত বালু নদীরূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া থেকে গাজীপুরে তুরাগ হয়ে ধলেশ্বরীতে মিলেছে।

সূত্র জানায়, প্রবাহিত শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীবহুদিন ধরেই রাজধানীও আশপাশের জেলায় যোগাযোগ ও পরিবেশ গত ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উৎপত্তি হওয়া নদীটি সারা বছরই নৌ চলাচলের উপযোগী থাকে।কিন্তু এই নদীর পানি এখন এতটাই দূষিত যে, একদিকে জলজ প্রাণের অস্তিত্ব মারাত্মক সঙ্কটে। অন্যদিকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের ৬ মাস পঁচা পানির দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তি নিয়ে বসবাস করছেন।

এছাড়াও নদী পথে যাত্রী ওপরিবহণ সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি রয়েছেই। শুধু তাই নয়, খোদ পরিবেশ অধিদফতর একে মৃত নদী বলেছেন। আর শীতলক্ষ্যা ও বালুর মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন এ নদী দুটির উভয় পাড়ের শিল্পবর্জ্য ও মানুষের সাধারণবর্জ্য।
নদী পাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, শীতলক্ষ্যার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা কারখানার বর্জ্য এই দূষণের কারণ।

সেইসাথে বিভিন্ন বাড়িঘরের তরল বর্জ্যও আসছে নদীতে। এর তীর ধরে হাঁটতে থাকলে বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়বে নদীরতীর ঘেঁষে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। আর সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত হচ্ছে বিভিন্ন তরলবর্জ্য। মুশুরী গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বাবু জানান, এক সময় সবাই এই নদীতে গোসল করতাম। আর এখন এ পানিহাতে স্পর্শ করতেও ঘৃণাহয়। আমরা নদীপাড়ে খুব কষ্টকরে বসবাস করছি। অথচ এ নদী দুটির পানির স্বচ্ছতাএ বংশীতলতার জন্য একসময় বিখ্যাত ছিল।

নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মুজাহেদুল ইসলাম জানান, এই নদী দুটির পানিতে সহনীয় মাত্রায় অক্সিজেননেই। ফলে জলজ প্রাণির জন্য এখন আর উপযোগী নেই। ফলে নদীতে মাছ ও আগেরমতো নেই। এমনকি গৃহস্থালির কাজেও শীতলক্ষ্যার পানি ব্যবহারের উপযোগী নয়। তিনি আরো জানান, নদীতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ প্রতি লিটারে ৪ মিলিগ্রামের কম রয়েছে। এমন টাহলে কোনো মৎস্য সম্পদ কিংবা জলজ সম্পদই বেঁচে থাকার অক্সিজেন পায়না।

পরিবেশ অধিদফতর সূত্র জানায়, শুধুমাত্র শীতলক্ষ্যার তীর ঘিরে রয়েছে দুই হাজার দুইশ’ বেশি শিল্পকারখানা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী পাড়ের মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলছে। নদীপাড়ে দাঁড়ানো যাচ্ছে না পঁচা পানির দুর্গন্ধে। এ নদী যেন কিছু অসাধু লোক জনের নর্দমাস্থল। এতে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর দুই পাড়েই পঁচা পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে জনজীবন।

এদিকে বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী দাবি করে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরজাহান আরা খাতুন জানান, যেখানে পঁচা পানির দুর্গন্ধে বসবাস দায় সেখানে এপানির ব্যবহার কিভাবে নিরাপদ হয়। এছাড়া এ পানি ব্যবহারকরে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এ নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষ। তাদের মধ্যে চর্ম রোগ, ডায়রিয়া, জন্ডিসসহ নানা পানি বাহিত জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •