ভারতীয় চাল আমদানির খবরে ধানের হাটে কমেছে বেচাকেনা
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২১-০৯-১১ ১৭:৫৩:৫২
হাটে ধানের জোগানও আছে বেশ, দামও স্থিতিশীল। তবু বেচাকেনা কমেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর ভিওসি ঘাটে অবস্থিত পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের হাটে। শতবর্ষী ওই হাটে বর্তমানে প্রতিদিন ৩০-৩৫ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত ৩০ শতাংশ কম।
মূলত বেসরকারিভাবে ভারতীয় চাল আমদানির ফলে বাজারে দেশি চালের দাম কমবে। এ জন্য লোকসানের শঙ্কায় কম ধান কিনছেন চালকলমালিকরা। তাদের মতে, ভারতীয় চাল বাজারে এলে ধানের বাজারদর আরও কমবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর ভিওসি ঘাটের ধানের হাটটি পূর্বাঞ্চলের ধানের মোকামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ। প্রতিদিন ভোরে এই মোকামে নৌকায় করে ধান নিয়ে আসেন বেপারিরা। এরপর সকাল ৮টা থেকে থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান বেচাকেনা হয় ভিওসি ঘাটের ওই হাটে।
বর্তমানে হাটে বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও হীরা ধান বেচাকেনা হচ্ছে। প্রতিমণ বিআর-২৮ জাতের ধান ১১৬০- ১১৭০ টাকা, বিআর-২৯ জাতের ধান ১১০০-১১২০ টাকা এবং হীরা ধান প্রতি মণ বেচাকেনা হচ্ছে ৯৫০-৯৭০ টাকা দরে। ধানের মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ মণ ধান বেচাকেনা হয় হাটে। আর বাকি সময়গুলোয় গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হয় হাটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সব চালকল-মালিক হাট থেকে ধান কেনেন। জেলায় ৩ শতাধিক চালকল রয়েছে। এর মধ্যে আশুগঞ্জ উপজেলায় আছে অন্তত আড়াইশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চালকলগুলো থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সব কটি জেলা এবং ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলায় চাল সরবরাহ করা হয়।
গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকেও হাটে প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হয়েছে। কিন্তু আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বেচাকেনা কমতে থাকে। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হচ্ছে। হাটে ভারতীয় চাল আমদানির খবর যাওয়ার পর থেকেই বেচাকেনা কমতে থাকে। সেই সঙ্গে ধানের দামও মণপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমে যায়।
চালকল-মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, অটোরাইস মিলগুলোয় প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মণ ধানের চাহিদা রয়েছে। আর অন্য রাইস মিলগুলোয় প্রতি সপ্তাহে চাহিদা আছে ১ হাজার মণ ধানের। কিন্তু ভারতীয় চাল আমদানি খবরে এখন চাহিদামতো ধান কিনছেন না চালকল-মালিকরা। কারণ, ধান থেকে চাল তৈরি করতে দ্বিগুণ খরচ পড়ে। সে অনুযায়ী বাজারে চালের দর কম।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থেকে ধান নিয়ে আসা বেপারি সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি বিআর-২৯ জাতের ৩০০ বস্তা ধান নিয়ে এসছেন হাটে। কেনা দরের চেয়ে হাটে কম দামে ধান বেচাকেনা হচ্ছে। এতে ৩০০ বস্তা ধানে ২০-৩০ হাজার টাকা লোকসান হবে তার। ভারত থেকে চাল আসবে, এই খবরে চালকল ব্যবসায়ীরা ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আশুগঞ্জ উপজেলার রজনীগন্ধা এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী হাসান ইমরান জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাজারগুলোতে এখনো ভারতীয় চাল ঢোকেনি। ভারতীয় চালের দাম পর্যবেক্ষণ না করা পর্যন্ত ধানের বাজারে মন্দাভাব কাটবে না। এখন চাহিদার চেয়েও কম ধান কেনা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল সিকদার বলেন, সরকার ১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বলে শুনেছি। ফলে সাধারণ মিল মালিকরা কম ধান কিনছেন। এতে বাজারে ধানের দামও কিছুটা কমেছে।
তিনি বলেন, মিল-মলিকরা ভারতীয় চালের বাজার পর্যবেক্ষণ করতে চাইছেন। ভারতীয় চাল বাজারে আসার পর বাজারদর দেখে যদি তারা মনে করেন, দামে খুব বেশি পার্থক্য নেই, তাহলে আবার আগের মতো ধান কিনবেন।
সানবিডি/ এন/আই






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













