তিন কোম্পানিকে ১০% শেয়ার পূরণ করার নির্দেশ বিএসইসির

:: আব্বাস উদ্দিন || প্রকাশ: ২০২১-০৯-১২ ২২:০৭:৩৩ || আপডেট: ২০২১-০৯-১৩ ০৯:১১:৩৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড,বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রন সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।  রোববার তিনটি কোম্পানির কাছে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএসইসি সূত্র মতে, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দশমিক ৯৭ শতাংশ শেয়ার,বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ৫ শতাংশ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার বাজারে রয়েছে।

ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার হলো- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ওই শেয়ার, যার মালিকরা পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই তাদের শেয়ার বিক্রি করার অধিকার রাখেন। তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারধারী (নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত) ব্যতীত অন্যদের শেয়ার ফ্রি-ফ্লোট হিসেবে বিবেচিত হয়। লকইন মেয়াদ শেষে প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের শেয়ারও ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারে যোগ হয়। উল্লেখিত তিন কোম্পানির কোনোটিরই ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার ১০ শতাংশ নেই। ওয়ালটনের ঘাটতি রয়েছে মোটের ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। আইসিবির ঘাটতি ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং বার্জার পেইন্টসের ৫ শতাংশ।

সূত্র মতে, বিএসইসির পাবলিক ইস্যু রুল অনুযায়ী, শুধু ফেসভ্যালুতে পুঁজিবাজারে আসতে হলে একটি কোম্পানিকে পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ অথবা ৩০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি সেই পরিমাণ শেয়ার ছাড়তে হবে। অর্থাৎ ফেসভ্যালুতে পুঁজিবাজারে আসতে একটি কোম্পানিকে কমপক্ষে তার ১০ শতাংশ শেয়ার আইপিওতে ছাড়তে হবে। অপরদিকে প্রিমিয়াম নিতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে হবে। এক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ে অংশ নিয়ে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করবেন। তবে এই বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানিকে কমপক্ষে কত শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে তার কোনো নীতিমালা নেই।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, তালিকাভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার বাজারে ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে। কোম্পানিগুলো পাবলিক ইস্যু রুল পরিপালন করেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত আরও কোম্পানির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কয়ে তাদেরকে ১০ শতাংশ শেয়ার পূরণ করার জন্য আরও কিছু শেয়ার ছাড়তে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন,পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে কোম্পানিগুলোকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার পূরণ করতে বলা বলা হয়েছে। তবে এই শেয়ার তারা আগামী এক বছরের মধ্যে বাজারে ছাড়বে। প্রতিমাসে ১ শতাংশের বেশি হবে না।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ: ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সর্বশেষ আর্থিক বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ,২১) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১২ টাকা ৭৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি এ ক্যাটাগড়িতে লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটির অনুমোধিত মুলধন ছয়শত কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩০২ কোটি ৯২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। মোট শেয়ারের ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। বাকী শেয়ারের মধ্যে ০.৩৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ০.১০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং ০.৪৮ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ: বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড সর্বশেষ আর্থিক বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৩৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন,২১) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ টাকা ০৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৩২ পয়সা। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি এ ক্যাটাগড়িতে লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটির অনুমোধিত মুলধন একশত কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৬ কোটি ৩৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। মোট শেয়ারের ৯৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। বাকী শেয়ারের মধ্যে ৩.৭১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ০.১৪ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং ১.১৫ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি): ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারহোল্ডারদের। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস। এদিকে সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ,২১) সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে (ইপিএস) ৪৮ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ইপিএস ছিলো ১ টাকা ২৭ পয়সা। ১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি এ ক্যাটাগড়িতে লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটির অনুমোধিত মুলধন এক হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮০৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ৬৯ দশমিক ৮১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। বাকী শেয়ারের মধ্যে সরকারী বিনিয়োগ ২৭ শতাংশ, ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, এবং ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •