সয়ামিল রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২১-১০-১৩ ২০:৫২:২৪ || আপডেট: ২০২১-১০-১৩ ২০:৫২:২৪

পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি ফিড তৈরির অন্যতম উপাদান সয়ামিল রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে সরকার।

দেশে পোলটি ফিড ও পশুখাদ্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে এ বিষয়ে আদেশেও পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) থেকে এ আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। তবে আদেশে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে যেসব এলসি ও টিটি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো ২০ অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানির কাজ শেষের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পোলট্রি শিল্প সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সয়ামিল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে হয়েছে, সয়ামিল রপ্তানি অব্যাহত থাকলে এর প্রভাবে ডেইরি ও পোলট্রি খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যার ফলে ডেইরি ও পোলট্রি খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের প্রাণিসম্পদ সেক্টরে বিরূপ প্রভাব পড়বে। সে কারণেই ডেইরি ও পোলট্রি সেক্টরের স্বার্থ রক্ষার্থে বৃহস্পতিবার থেকে সয়ামিল রপ্তানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। তবে বুধবার (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত যেসব এলসি/টিটি সম্পন্ন হবে ওই পণ্যসমূহ আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি করা যাবে।

রপ্তানি বন্ধের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (এফআইএবি) সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান বলেন, দেরিতে হলেও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

এফআইএবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান বলেন, সয়ামিল রপ্তানির সিদ্ধান্তে দেশীয় পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি খাতের অভাবনীয় ক্ষতি হয়েছে। রপ্তানি বন্ধ হওয়া ও ভারতে সংকট কমে যাওয়ায় সয়ামিলের স্থানীয় মূল্য অবশ্যই কমবে বলে আমি আশা করি।

সয়ামিল রপ্তানি বন্ধে আপাতত স্বস্তি এলেও পোলট্রি ও ডেইরি খামারিরা অবশ্য বলছেন, রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তই যথেষ্ঠ নয়। সয়ামিলের দাম আগের অবস্থায় আনাও অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ফিডের দাম কমবে না; ফলে ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। তাই সয়ামিলের মূল্য কমানোর জন্য তৈল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি খামারিরা।

এএ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •