আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২১-১১-০৯ ২০:১৪:৩৭ || আপডেট: ২০২১-১১-০৯ ২০:১৬:২১

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের আবেদন নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে দুদক ও এফআইইউ’কে জানাতে বলেছেন আদালত।

একইসঙ্গে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান/তদন্তে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব-বর্হিভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন, এনবিআর, বিএফআইইউসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এসব আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান খান।

পরে মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘মোশাররফ হোসেন ২০১৮ সালে আইডিআরএ’র মেম্বার হন। ২০২০ সালে চেয়ারম্যান হন। এ মামলার রিট আবেদন করেন বিনিয়োগকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ আমিন মেহেদী। একটি উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগের মাধ্যমে জানতে পারেন মোশাররফ হোসেন সদস্য এবং পরে চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় দুটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন।’

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইনের ধারা ৭(৩)(খ) অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হওয়ার বা থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি বিমা মধ্যস্থতাকারী বা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনও সংস্থা বা এইরূপ নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী হন বা তিনি কোনও কোম্পানি বা সংস্থার (সরকারি বা বেসরকারি) পরিচালক বা অন্য কোনও পদে নিযুক্ত থাকেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মক্কেলের কাছে মনে হয়ছে, মোশাররফ হোসেনের চেয়ারম্যান পদে থাকাটা অবৈধ। তাই এর আগে এই মর্মে একটি রিট করেছিলেন। সেই রিটে কোনও অধিকার বলে মোশাররফ হোসেন পদে আছেন তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘এরপর রিট আবেদনকারী আরও খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন, ওই দুটি কোম্পানির আয়কর বিভাগে দেওয়া রিটার্ন নথিতে দেখতে পান কোম্পানিগুলোর ব্যবসা বাণিজ্য নেই। তাহলে এ দুটি আয়হীন কোম্পানি। কোনও কর্মচারী থাকার কথা না। কিন্তু এ দুটো কোম্পানির কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড আছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন মোশাররফ হোসেন। আবার এ দুটি কোম্পানি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছে। এখন এ কোম্পানির আসল উদ্দেশ্য কী? অর্থ পাচারে ব্যবহার করছেন কিনা? এ অবস্থায় এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তদন্ত করতে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বা শুনানি হয়নি। তাই এ রিট দায়ের করা হয়। যার শুনানি নিয়ে আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।’

এএ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •