ডাণ্ডাবেড়ি পরা সেই যুবক এখন দেশের সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান

জেলা প্রতিনিধি || প্রকাশ: ২০২২-০১-১৮ ২০:২০:১২ || আপডেট: ২০২২-০১-১৮ ২০:২০:১২

গলায় ফুলের মালা, কিন্তু হাতে হাতকড়া, পায়ে ডান্ডাবেড়িসহ বেশক’টি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। ছবিটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ছবি’র যুবকের নাম তোফায়েল প্রধান। বয়স ৩০। তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

তোফায়েল প্রধান জানান, তাঁর জন্ম ১৯৯২ সালে। ২০০৬ সালে এসএসসি এবং ২০০৮-এ এইচএসসি দিয়েছেন। সেই হিসাবে এখন তাঁর বয়স ৩০ বছর। ধারণা করা হচ্ছে, বয়স বিবেচনায় দেশের সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান তিনিই।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তোফায়েল। টানা ৩৩ বছরের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী (চশমা) এবং সরকার দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে (নৌকা) পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। আনারস প্রতীক নিয়ে চার হাজার ৩৮৮ ভোট পান এই যুবক। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা মার্কার প্রার্থী নজরুল ইসলাম পান ৩৩৫৪ ভোট। এক হাজার ৩৪ ভোটে সরকার দলীয় প্রার্থী পরাজিত হন তোফায়েলের কাছে। এছাড়া ৩৩ বছরের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী পান ২ হাজার ৭৪২ ভোট।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হাতকড়া ও ডাণ্ডাবেড়ি পরা ছবিটি ২০১৫ সালের। রাজনৈতিক মামলায় তোফায়েলকে জেল হাজত থেকে এভাবেই আদালতে তোলা হয়েছিলো। তখন সাংবাদিকরা পঞ্চগড় আদালত এলাকা থেকে দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরই বিজয়ের মালা পরা ছবি এবং ২০১৫ সালে আসামি অবস্থায় হাতকড়া ও ডাণ্ডাবেড়ি পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরতে থাকে।

তোফায়েল প্রধান বলেন, ২০১৫ সালে পঞ্চগড় ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি হওয়ার তিন দিন পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ৬ মামলায় নিয়মিত শুনানি ও হাজিরা দিতে আদালতে যেতে হতো। একাধিক মামলা থাকায় ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরানো হয়েছিলো। যখন ছবিটি তোলা হয়, তখন আমাকে জেল হাজত থেকে পঞ্চগড় আদালতে নেয়া হচ্ছিলো। ছবিটি কে ধারণ করেছে আমার জানা নেই।

আবেগাপ্লুত তোফায়েল প্রধান বলেন, কোর্ট থেকে ফিরতে দেরি হলে কোনো কোনো সময় রুমে ডাণ্ডাবেড়ি দিয়ে রাখা হতো। ফলে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি নিয়ে ঘুমাতে হতো। এসময় নামাজ, ঘুম, খাওয়-দাওয়া এবং টয়লেট ব্যবহারে অনেক কষ্ট হতো।

তিনি বলেন, তাঁর বাবা মরহুম আলহাজ্ব আকবর আলী প্রধান কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং মসজিদ মাদ্রাসাসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তাঁদের বাড়ি কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট ঘটবর এলাকায়। নয় ভাই, সাত বোনের মধ্যে তোফায়েল সবার ছোট। চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নের জনগণ ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এএ