নতুন ও বিদেশী বিনিয়োগ আনতে কাজ করবে থ্রিআই সিকিউরিটিজ

:: শাহ আলম নূর || প্রকাশ: ২০২২-০২-০৩ ০৯:০৩:৩২ || আপডেট: ২০২২-০২-০৩ ০৯:০৩:৩২

বড় হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। এখানে বিদেশী বিনিয়োগের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা। এজন্য নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। তারই অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে রয়েছে সরকার।

অন্যদিকে পুঁজিবাজারকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই অংশ হিসেবে নতুন করে আরও ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক)। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো থ্রিআই সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ইস্তাতাক আহমেদ শিমুল কথা বলেছেন দেশের অন্যতম নিউজ পোর্টাল সানবিডির সাথে। তার কথার চুম্বক অংশটুকু তুলে ধরেছেন সানবিডির সিনিয়র রিপোর্টার শাহ আলম নূর। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন বিনিয়োগারী বাজারে নিয়ে আসা। অন্যদিকে বিদেশে বিনিয়োগ টানতেও কাজ করবে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ইস্তাতাক আহমেদ শিমুল বলেন, প্রায় ৪০ বছর পর ব্রোকারেজ হাউজ পরিচালনার জন্য ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে বিএসইসি। দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান বাড়াতে এই সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নের্তৃত্বে কমিশন। সার্বিক সহযোগিতকার জন্য কাজ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রতিষ্ঠানটির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা খুব সুন্দরভাবে কাজগুলো বাস্তবায়ন করেছে। আজকের এই দিনে বিএসইসি ও ডিএসইর সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।

তিনি বলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ট্রেকের অনুমোদন। তিনি যে সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন তা বেশ ভালোভাবেই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজে আসছে।

ইসতাক আহমেদ শিমুল বলেন, যেসব কোম্পানিকে ব্রোকারেজ হাউজ পরিচালনার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে স্টক ব্রোকার, সিডিবিএলের অনুমতি পেয়েছে। যাতে তারা কার্যক্রম শুরু করতে পারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) অনুমতির জন্য এখন অপেক্ষা অনেক প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে অনেকগুলো ব্রোকারেজ হাউজ সারা দেশে পরিচালিত হচ্ছে। এদের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন বোকারেজ হাউজগুলো কিভাবে ব্যবসা করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগকারী পাওয়া আসলেই একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে “থ্রিআই সিকিউরিটিজ” এর জন্য বিনিয়োগকারী পেতে মোটেও কষ্ট হচ্ছে না। কারণ এই প্রতিষ্ঠানে যারা বিও একাউন্ট খুলবে তাদেরকে কোন অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না। অর্থাৎ সব ধরনের খরচ বহন করবে “থ্রি আই সিকিউরিটিজ”। এখানে কোন হিডেন চার্জও দিতে হচ্ছে না। আসলে এই খরচ তাদের প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছেন বলে তিনি জানান। বিও হিসাব খোলা সব সময়ের জন্য ফ্রি।

তিনি বলেন, “থ্রি আই সিকিউরিটিজ” কম্পালায়েন্সের ব্যাপারে কোন কম্প্রোমাইজ করতে চায় না। তাদের প্রতিষ্ঠান কম্পালায়েন্সের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। বিএসইসি, ডিএসই ও সিডিবিএল এর সকল নিয়ম কানুন শতভাগ বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। বিও একাউন্ট থেকে শুরু করে সকল লেনদেনে তারা সংশ্লিষ্ঠ বিভাগগুলোর নিয়মকানুন বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, শুরুতেই আমরা জাপানের একটি বড় বিনিয়োগ পাব। যেটি পুঁজিবাজার উন্নয়নে অবদান রাখবে। জাপানের একটি কোম্পানির সাথে কথাবার্তা চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগির এই বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ঠ করতে আমেরিকায় একটি ডিজিটাল বুথ চালু করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য জায়গাও পছন্দ করা হয়েছে। আমেরিকাতে বুথ চালু করতে পারলে আরও অনেক বিদেশী বিনিয়োগ আসবে বলে তিনি মনে করেন।

“থ্রি আই সিকিউরিটিজ” এর কর্ণধর বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আনার জন্য তারা বেশি গুরত্ব দিয়ে থাকবেন। কারণ দেশে এখন যেসব বিনিয়োগকারী রয়েছে তারা সবাই কোন না কোন ব্রোকারেজের সাথে ব্যবসা করছেন। এসব বিনিয়োগকারী নিয়ে আসা একটু কঠিন। কিন্তু বিদেশী বিনিযোগকারী যারা এখনও দেশে কোন ব্রোকারেজ হাউজের সাথে ব্যবসা শুরু করেনি তাদের নিয়ে আসা অনেকটাই সহজ হবে।

তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে প্রচুর পরিমানে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। কারণ মার্কেট বড় হচ্ছে। নতুন নতুন অনেক পণ্য বাজারে আসছে। ফলে বিনিয়োগের জায়গ বাড়ছে। এতে দেশী-বিদশী বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগকারী নিয়ে আসার যে সুযোগ তৈরী হয়েছে “থ্রি আই সিকিউরিটিজ” তা কাজে লাগাতে চায়।

দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে গবেষণা হচ্ছে না। বাজার বড় হওয়ার সাথে সাথে যে পরিমান গবেষণা হওয়া দরকার তার পরিমান অত্যন্ত নগন্য। অর্থাৎ দেশের পুঁজিবাজার নিযে গবেষনা নেই বল্লেই চলে। এজন্য “থ্রি আই সিকিউরিটিজ” দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা করতে চায়। এজন্য ইতোমধ্যে একটি রিচার্জ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের সদস্যরা তাদের কাজও শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে গবেষণা ছাড়া ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবসা করা অত্যান্ত কঠিন হবে। কারণ যে প্রতিষ্ঠানে গবেষণা নেই সেখানে বিনিয়োগকারীরা যেতে আগ্রহ প্রকাশ করবে না। যে হাউজের গবেষণা যত বেশি হবে সেখানে বিনিয়োগকারী ততো বেশি যায়।

তিনি আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউজের জন্য কঠিন সময় আসছে। কারণ নীতি নির্ধারনী প্রতিষ্ঠানগুলো কম্পালায়েন্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক কঠিন হচ্ছে। কারণ এখন পর্যন্ত যে সব ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশই ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউজ।

তিনি বলেন, এখানে অনেক নতুন বিনিয়োগকারী আছেন,তাদের উচিত হবে প্রথম দিকে মার্জিন লোন ব্যবহার না করা। শেয়ার বাজার না বুঝে মার্জিন ঋণ ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পুঁজিবাজার সম্পর্কে জেনে বুঝে মার্জিন ঋণ ব্যবহার করা উচিত।

আহমেদ শিমুল বলেন,বিনিয়োগকারীদের উচিত হবে নিজের কাছে যে টাকা রয়েছে তা দিয়ে ব্যবসা করা। অনেকের কাছে অলস টাকা পড়ে রয়েছে যা তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে ঋণ করে পুঁচিবাজারে বিনিয়োগ করা একেবারেই ঠিক নয়।

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন 

Sunbd Newsক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজশেয়ারবাজারের খবরা-খবর