“আমাদের দেশে সমাজ জীবনে নারীর তুলনামূলক অনুপস্থিতি এবং নারীর উপর ধর্ষবাদী পুরুষদের যৌন আগ্রাসন ও ধর্ষণের আধিক্য যে কোনও মানুষের চোখে পড়বে। এটা অবশ্য আমাদের দেশের একক অবস্থা নয়, সমগ্র মুসলিম পৃথিবীর অবস্থাই কম-বেশি এই রকম। (অধ্যায়- ইসলামের বিজয়ে নারীর পরাজয়, পৃষ্ঠা- ৫১)
৪) বইটির ১১০ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে:
অধ্যায়: ইসলামের অশুভ ভূমিকা, পৃষ্ঠা-১১৪)
বলাবাহুল্য, ব-দ্বীপ প্রকাশনের শুধু একটি বই নয় বরং প্রতিটি বই ইসলাম নিয়ে গালাগালিতে ভরপুর। এবারের বইমেলায় তাদের স্টলে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে একই ধরনের চরম ধর্মবিদ্বেষী অনেক বই। এগুলো হচ্ছে:
ক) বই- জিহাদ: জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তকরণ, সাম্রাজ্যবাদ ও দাসত্বের উত্তরাধিকার। লেখক-এম এ খান।
খ) বই - ইসলাম ও আধুনিক সভ্যতা: লেখক- শামসুজ্জোহা মানিক
গ) বই- ইসলামে নারীর অবস্থান: শামসুজ্জোহা মানিক
ঘ) বই- ইসলাম বিতর্ক (প্রবন্ধ সংকলন): শামসুজ্জোহা মানিক
ঙ) বই- মুহাম্মদ, জিহাদ ও ইসলামের সহিংস প্রচার: লেখক-এম এ খান।
উল্লেখ্য, ব-দ্বীপ প্রকাশনী কুখ্যাত ইসলাম বিদ্বেষী প্রকাশনী যারা মূলত ‘বঙ্গরাষ্ট্র আন্দোলন’ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। বঙ্গরাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী এক মতবাদ, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিনষ্ট করে নতুন রাষ্ট্র ‘বঙ্গরাষ্ট্র’ গঠনের পরিকল্পনায় লিপ্ত। ব-দ্বীপ প্রকাশনী প্রকাশ্যে রাষ্ট্র ও ধর্ম বিরোধী বই ছাপানোয় ২০১৫ সালে তাকে কোন স্টল বরাদ্দ দেয়নি বইমেলা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এইবার কি কারণে এ ধরনের একটি জঘন্য প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হলো তা সত্যিই আশ্চর্যজনক বিষয়।
আরো উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমির নীতিমালা অনুযায়ী- রাষ্ট্র ও ধর্মকে কটাক্ষ করা হয় বইমেলায় এমন কোন বই ছাপানো যাবে না। বইমেলার নীতিমালা ১৩ এর ১৩ অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে- অশ্লীল ও রুচিগর্হিত বই প্রকাশ করলে স্টল বরাদ্দ বাতিল করা হবে। সেই সঙ্গে আর কোনো সময় সেই স্টলকে বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এ কারণে বইমেলার শুরুতেই বাংলা একাডেমীর ডিজি শামসুজ্জামান খান সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলো এবার কোন ধর্মীয় উস্কানিসূচক বই ছাপানো যাবে না।
কিন্তু এত স্পষ্ট নীতিমালা ও ঘোষণার পরও রাষ্ট্র ও ধর্মদ্রোহী ব-দ্বীপ প্রকাশনকে কেন স্টল বরাদ্দ দেওয়া হলো তা রীতিমত রহস্যের সৃষ্টি করেছে। একই সাথে কোন অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় এ ধরনের একটি উগ্র ধর্মবিরোধী প্রকাশনী বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে তাও রহস্য আবৃত।
যেহেতু বইমেলা বাংলা একাডেমীর তত্ত্বাবধানে হয়, তাই আপনারা বাংলা একাডেমীর দায়িত্বশীলদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে পারেন-
বাংলা একাডেমীর ফোন নম্বর:
৯৬৬০৯৩৩, ৮৬১৯৫৭৭ (মহাপরিচালক), ৮৬১৯৫৪৬, ৮৬২৮৪৪০ (পরিচালক),৮৬১৯৭১৫ (প্রধান গ্রন্থাগারিক)
৮৬১৯৩৬৪ (উপ-পরিচালক), ৮৬১৯৭৫০ (ব্যবস্থাপক)
ব-দ্বীপ প্রকাশন মূল অফিস:
৬৩, কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩- ২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাটাবন, ঢাকা-১২০৫
মোবাইল: ০১৫৫৭৭৯১৩৯৬