কেন ও কিভাবে জিডি করবেন?

|| প্রকাশ: ২০১৫-১১-০৯ ১১:২৫:৪৬ || আপডেট: ২০১৫-১১-০৯ ১১:২৫:৪৬

adalot১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪ (এস) ধারায় বলা হয়েছে পুলিশ স্টেশন হল ফৌজদারি জুরিসডিকশনের সর্বনিম্ন ইউনিট যেখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া বা ঘটতে যাচ্ছে এমন সব ঘটনা সম্পর্কে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু সব ঘটনার জন্য এজাহার দায়ের করা যায় না বা এজাহার হয় না। কাউকে কোন প্রকার হুমকি প্রদর্শন করলে এজাহার না করে তা সাধারণত থানায় রক্ষিত ‘সাধারণ ডায়েরিতে’ লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে: যাকে সংক্ষেপে বলা হয় জিডি।

কখন জিডি করতে হয়:

যদি কোন কারণে কোন এলাকায় এক বা একাধিক লোকের মাঝে সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিংবা কেউ কাউকে যখন কোন প্রকার হুমকি প্রদর্শন করে বা কোন ব্যক্তির প্রাণনাশের সম্ভাবনা দেখা দিলে ‘মূল্যবান কোন ডকুমেন্ট বা সম্পত্তি হারিয়ে গেলে, ইত্যাদি কারণের উদ্ভব হলে থানায় গিয়ে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারকে উপরোল্লিখিত ঘটনা মৌখিক বা লিখিত আকারে জানাতে হয় এবং ডিউটি অফিসার ঘটনাটিকে সাধারণ ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া যে কোন ঘটনা যা জিডিতে এন্ট্রি করা প্রয়োজন তার জন্য জিডি করতে হয়।

জিডি করার পদ্ধতি:

উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোন একটি যদি আপনার জীবনে ঘটে যায় তাহলে আপনি থানায় জিডি করার জন্য লিখিত দরখাস্তের ৩টি কপি থানায় নিয়ে ডিউটি অফিসারকে দিয়ে জিডি এন্ট্রি করার জন্য বলবেন। প্রত্যেক জিডির একটি এন্ট্রি নম্বর ও তারিখ থাকে। ডিউটি অফিসার একটি কপি থানায় জমা রাখবেন এবং অন্য একটি কপিতে জিডি এন্ট্রির নম্বর ও তারিখ লিখে থানায় সিলমোহর দিয়ে দরখাস্ত কারীকে ফেরত দিবেন। তৃতীয় কপিটি তদন্তকারী কর্মকর্তার জন্য রাখা হয়।

জিডিতে কি থাকে:

প্রত্যেকটি থানায় রক্ষিত সাধারণ ডায়েরিতে নালিশকারীদের নাম, ঠিকানা, ধৃত ব্যক্তির নাম, উদ্ধার করা অস্ত্রের বিবরণ, জব্দকৃত মালামালের বিবরণ, আসামী কোর্টে চালান দেয়ার তথ্য, এলাকার খাদ্য শস্যের মূল্য ও উৎপাদন, যাতায়াত ব্যবস্থা, পরিবেশ, মহামারীর সংবাদ, রাজনৈতিক অবস্থা, থানায় উর্ধবতন কর্মকর্তাদের আগমন-প্রস্থান ইত্যাদি সব বিবরণ। মোদ্দাকথা, সাধারণ ডায়েরি হল একটি থানা এলাকার চলমান চিত্ররূপ।

জিডির তদন্ত:

থানায় যে সব বিষয়ে জিডি করা হয়, সেসব বিষয়ের মধ্যে যেগুলো Non Cognizable offence (অধর্তব্য অপরাধ) সেগুলোর তদন্ত সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ (২) ধারায় বলা হয়েছে- ‘প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্তের আদেশ ব্যতীত কোন পুলিশ কর্মকর্তা নন কগানাইজ্যাবল মামলার তদন্ত করতে পারবেন না।’ অর্থাৎ তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।কিন্তু যেসব জিডির বিষয়বস্তু আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable offence) সেসব জিডির বিষয়বস্তু থানা কর্তৃপক্ষ সঙ্ঘে সঙ্ঘে আমলে নিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। এখানে উল্লেখ্য, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৭ (বি) ধারায় বলা হয়েছে ‘থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে, তদন্তের জন্য যথেষ্ট গ্রাউন্ড (Sufficient ground) নাই, তাহলে তিনি তদন্তের জন্য ব্যবস্থা নিবেন না অথবা তদন্ত করবেন না।

জিডির গুরুত্ব :

আইনগত সহায়তা লাভের জন্য জিডির গুরুত্ব বিদ্যমান। কেবলমাত্র একটি জিডির ভিত্তিতেই একটি মামলার শুরু হতে অথবা কোন অপরাধের আশঙ্কা থেকে একটি জিডি করার পর সে অপরাধটি সংঘটিত হলে আদালতে ওই জিডি সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয়ে থাকে।

সাধারণ ডায়েরি ও সাধারণ মানুষের ভাবনা :

থানা-পুলিশের আতঙ্কময় কাজের জন্য জনসাধারণ সাধারণ ডায়েরিকে (জিডি) সাধারণভাবে গ্রহণ করতে পারে না। তারা থানায় জিডি হওয়া মানেই ভয়ে অস্থির হয়ে যায়। সাধারণ মানুষকে ভাবতে হবে এই ভাবে যে, পিআর-১৯৮৩-এর প্রবিধান ২০১(বি) অনুযায়ী থানায় ওসি অসুস্থ হয়ে অফিসে আসতে না পারলে যদি জিডি করতে হয়, তাহলে জিডি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

সানবিডি/ঢাকা/এসএস