সর্বোচ্চ মানের কম্প্রেসার কারখানা করছে ওয়ালটন

|| প্রকাশ: ২০১৫-১১-১১ ১২:০০:২৪ || আপডেট: ২০১৫-১২-০৫ ১০:৪৪:৩৯

শিল্প প্রযুক্তিতে এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
Compressor-JPG

সর্বোচ্চ মানের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফ্রিজের কম্প্রেসার তৈরির কারখানা করছে ওয়ালটন। বার্ষিক ৪০ লাখ কম্প্রেসার তৈরি হবে ওই কারখানায়। যা থেকে বছরে ২৫ লাখ কম্প্রেসার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আল্ট্রা হাইব্রিড কোয়ালিটির ওই কম্প্রেসার হবে সাধারন কম্প্রেসারের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী, টেকসই, নিখুঁত এবং বিদ্যুত সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব।

এই কারখানা বাংলাদেশের শিল্প প্রযুক্তিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। সেইসঙ্গে বাংলাদেশে উৎপাদিত কম্প্রেসার দিয়ে তৈরি ফ্রিজের মানও বেড়ে যাবে বহুগুণে।

বর্তমানে ওয়ালটনের অর্ধশতাধিক প্রকৌশলী ইউরোপে রয়েছেন কারখানার মেশিনারিজ স্থানান্তর ও প্রশিক্ষন কাজে। এদিকে গাজীপুরের চন্দ্রায় কারখানার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এরইমধ্যে গত অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে মেশিনারিজ ইনস্টলেশন। কমিশনিং শেষে আগামি বছরের মাঝামাঝি নাগাদ উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।

ওয়ালটনের সোর্সিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও কম্প্রেসার প্রকল্প প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আম্বিয়া জানান, বাংলাদেশে এটাই প্রথম ফ্রিজের কম্প্রেসার তৈরির উদ্যোগ। বর্তমানে এশিয়ার সর্বোচ্চ মানের কম্প্রেসার ব্যবহৃত হচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজে। কিন্তু ওয়ালটন নিজেরা যে কম্প্রেসার তৈরি করতে যাচ্ছে তা হবে ওই কম্প্রেসারের চেয়েও অনেক বেশি কার্যকরী, টেকসই এবং বিদ্যুত সাশ্রয়ী। ফলে এশিয়ার সর্বোচ্চ মানের কম্প্রেসার তৈরি হবে বাংলাদেশে। শুধু তাই নয়, ওয়ালটন কম্প্রেসার হবে বর্তমান বিশ্বের লেটেস্ট প্রযুক্তির।

জানা গেছে, ওয়ালটনের শ’খানেক প্রকৌশলী গত কয়েক মাস ধরে ইউরোপে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের এই কাজ চলবে ৬ মাস। ২০০ কন্টেইনারের বেশি মেশিনারিজ আসছে উইরোপ থেকে। এক্সক্লুসিভ কিছু হ্যাভি মেশিনারিজের জন্য বিশেষ জাহাজ ভাড়া করা হয়েছে।

ওয়ালটনের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম জানান, তাদের কারখানায় বছরে তৈরি হবে ৪০ লাখ কম্প্রেসার। দেশীয় বাজারের ১৫ লাখের চাহিদা মিটিয়ে বাকি ২৫ লাখ রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের কম্প্রেসার নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। নতুন এই কম্প্রেসার ফ্যাক্টরিতে ৩ শতাধিক প্রকৌশলীসহ দুই হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। তৈরি হবে দক্ষ জনবল। বিশেষ করে কম্প্রেসার তৈরি, উন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়ালটন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে কম্প্রেসারের ক্ষেত্রে ৮ বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছে ওয়ালটন। নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত কম্প্রেসার আরো মানসম্মত হবে বিধায় ১০ বছর বা তারও বেশি ওয়ারেন্টি দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই কম্প্রেসার ফ্যাক্টরি। নির্মাণ করা করা হয়েছে নতুন চারতলা ভবন। প্রায় ১৬ লাখ বর্গফুট কর্ম এলাকায় হবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। ওয়ালটন ব্র্যান্ডের কম্প্রেসারের নকশা তৈরি হয়ে গেছে অনেক আগেই। থাকছে বিশাল স্টিল, জিংক, এ্যালুমিনিয়াম ও কপার কাস্টিং এবং ফাউন্ড্রি। থাকছে বিশাল টেস্টিং ও মেটাল প্রসেসিং সিস্টেম। যা হবে একটি সমন্বিত কারখানা।

এ প্রসঙ্গে কম্প্রেসার প্রকল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মীর মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, ওয়ালটনের কম্প্রেসার হবে অনেক উচ্চমানের। ফলে ওয়ালটন বিশ্বব্যাপী শক্ত অবস্থানে যাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। প্রয়োজনীয় লেটেস্ট প্রযুক্তি এবং দক্ষ প্রকৌশলী সবই ওয়ালটনের রয়েছে। এ্যাসেম্বলিং নয় পূর্নাঙ্গ কম্প্রেসার বাংলাদেশেই তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ এতে সফল হবেই।’

মুজাহিদুল ইসলাম জানান, সাধারণত বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন œ ধরণের কম্প্রেসার লাগে। কিন্তু, ওয়ালটন এমন প্রযুক্তিতে কম্প্রেসার তৈরি করবে যা যে কোনো আবহাওয়ায় এবং লো অথবা হাই-ভোল্টেজেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করবে। উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে ইন্ডাকশন পদ্ধতিতে শুরু হলেও পরে তা ইনভার্টার প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হবে। তিনি যোগ করেন, উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য তৈরিতে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগীরই বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে পারবে।