দেশের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট নির্মাণে চুক্তি

প্রকাশ: ২০১৫-১১-১১ ১৬:৫৬:৪১

Satalite.jpg1দেশের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের জন্য ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালেস এলিনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ এবং থ্যালেস এলিনিয়া’র চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জঁ লুক গল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

আগামী ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। উপগ্রহের পুরো কাঠামো, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূস্থিত দু’টি স্টেশন, পরিচালনা, ঋণের ব্যবস্থা করবে থ্যালাস। ১ হাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে স্যাটেলাইট সিস্টেম সরবারহের কাজ পায় কোম্পানিটি। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ২১ অক্টোবর সিস্টেম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগা প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত  সুফি অ্যাবার্ট উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন টেলিযোগাযোগ সচিব ফয়জুর রহমান।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপিত হলে দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত হবে। বছরে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়া বাদদ ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি স্যাটেলাইটের বর্ধিত ফ্রিকোয়েন্সি ভাড়া দিয়ে রাজস্ব আয় করা যাবে।  প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের ব্যয় উঠে আসবে। স্যাটলাইট ‘ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখবে।’

অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘আজকের এই দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর দুই হাজার ৯৬৮ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু স্যাটলাইট প্রকল্প অনুমোদন করে । যার মধ্যে ১ হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা সরকারের তহবিল থেকে যোগানো হবে। বাকি ১ হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিডার্স ফাইন্যান্সিং এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

গত ১৫ জানুয়ারি স্যাটলাইটের জন্য রাশিয়ার কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনস এর কাছ থেকে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অরবিটাল স্লট ১৫ বছরের জন্য ইজারা নেয়। এজন্য ব্যয় হচ্ছে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল’  এ প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তারা উপগ্রহের নকশা তৈরির কাজ শুরু করেছে। ভূমি থেকে উপগ্রহটি নিয়ন্ত্রণের জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এবং রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) নিজস্ব জমিতে দুটি ‘ভূ স্টেশন’ নির্মাণ করা হবে।

Print Print