রাবিতে শিক্ষক হত্যাকাণ্ড মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় প্রতিবাদ র‌্যালী

আপডেট: ২০১৫-১১-১৫ ১৯:২৫:১২


12226688_1521972321460338_564054768_nরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক আশ্বাস দেন এ মাসের মধ্যে মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রফেসর লিলন হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়।

দ্রুত বিচার কার্য না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রয়াত শিক্ষকের পরিবার এবং সহকর্মী-শিক্ষার্থীরা। র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নিহত শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার সেখানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর শফিউল ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহৎরিদ জেবিন বলেন, বাবাকে হত্যা করার এক বছরেও মামলার কোনো অগ্রগতি না পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত হতাশ। বিগত এক বছর আমার কাছে ছিলো খুব কষ্টের। হত্যাকারীদের শাস্তি দেখার একটি মাত্র আশা নিয়ে আমি এখনও বেঁচে আছি।

এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা বলেন, এই বর্বরোচিত হত্যার মোটিভ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কিছুই জানানো হয়নি। এক বছর হয়ে গেল অথচ বিচারই শুরু হল না। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কি হতে পারে!

রাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ওয়ারদাতুল আকমাম বলেন, বর্তমান সরকার শিশু রাজন ও রাকিব হত্যার বিচারকার্য যেভাবে দ্রুত সম্পন্ন করেছে, আমরা চাই শফিউল হত্যাকাণ্ডের বিচারও দ্রুত শেষ করুক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক বলেন, রাবি শিক্ষক ড. শফিউল হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত। খুব দ্রুত সেটি আদালতে দাখিল করা হবে। তিনি আরো বলেন, যুবদল নেতা পিন্টুর স্ত্রী রেশমার সঙ্গে দ্বন্দ্বেই অপর যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জলের পরিকল্পনায় শিক্ষক লিলনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জল এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রেজাউল করিম, সদস্য আব্দুল আলীম, আইন বিভাগের প্রফেসর হাসিবুল আলম প্রধান, প্রফেসর শফিউল ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহৎরিদ জেবিন প্রমুখ।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর শফিউল ইসলাম লিলনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বেশ কয়েকবার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলের পর বর্তমানে মামলাটি ডিবিতে রয়েছে।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ

Print Print