জবি টিএসসির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে বাঁধা দিলো ছাত্রলীগ

|| প্রকাশ: ২০১৫-১১-১৭ ১৯:১৬:৫০ || আপডেট: ২০১৫-১১-১৭ ১৯:১৬:৫০

20151117_131231জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঘোষিত টিএসসির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে বাঁধা দিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গেলে সেখানে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুগত কয়েকজন নেতাকর্মী বাঁধা দেয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে টিএসসি উদ্ধারের দাবিতে টিএসসির সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে করে ছাত্র ইউনিয়ন। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জি এম জিলানী শুভ বলেন, জবি ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ মদদে প্রস্তাবিত টিএসসিতে কাপড়ের ব্যাবসা করছে ছাত্রলীগের সহ-সভাপিত মামুন এবং বহিরাগত দোকানদার ইউনুছ। সমাবেশ শেষে দুপুর ১টার দিকে ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী টিএসসিতে অবস্থিত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এসময় ব্যাবসায়ীরা মালপত্র নিয়ে টিএসসি ছেড়ে চলে যেতে চাইলে তাদেরকে আবার দোকান ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন জবি ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের অনুগত সহ-সভাপতি জাহিদ বিল্লাহ মামুন এবং সঞ্জিব বসাক।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জাহিদ বিল্লাহ মামুনসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার নির্দেশে টিএসসিতে কাপড়ের ব্যবসা বসানো হয়েছে। এমনকি উচ্ছেদের পরে তারা আবার দোকান বসানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে মামুন বলেন, তার ১৬ লাখ টাকার পুরান কাপড় গত বছর বিক্রি করতে পারেননি। এ বছর বিক্রি করতে না পারলে তার অনেক বড় লোকসান হয়ে যাবে। এ জন্য তিনি দোকান বসিয়েছেন। এ ব্যাপারে পত্রিকায় খবর প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

টিএসসি দখলের সাথে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ এখানে কিছুই করছেনা। জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব দখলমুক্ত করা। যারা কাপড়ের ব্যবসা বসিয়েছিল তাদেরকে উঠে যেতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। দোকান বসানোর কথা অস্বীকার করেছেন যুগ্নসাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব বসাকও। তিনি বলেন, তিনি ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। কিন্তু টিএসসিতে যাননি। তবে বামপন্থি ছাত্ররা সেখানে ভাংচুর করেছেন বলে শুনেছেন তিনি।

জবি ছাত্রলীগের সভাপতি এফএম শরিফুল ইসলাম বলেন, টিএসসি প্রতিষ্ঠা জবি শিক্ষার্থীদের একটি স্বপ্ন। জায়গাটি আমরা আন্দোলন করে দখল করেছি। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জায়গাটি আবার বেদখলে চলে গেছে। এ জন্য আন্দোলন করতে প্রস্তুত জবি শিক্ষার্থীরা। শিগগির জবি ভিসির কাছে স্বারকলীপি প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ/ইসমাঈল