বাতিল হচ্ছে যে ১৭ পরিচালকের পদ
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২০-০৯-১৮ ১৩:০৫:২৬
পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ১৭ জন পরিচালকের পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন না করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। আগামী রোববার এই বিষয়ে একটি আদেশ জারি হবে।ইতোমধ্যে আদেশটিতে সই করেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২ জুলাই ২০২০ সালে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাদকতা নিয়ে সার্ক্যুলার জারি করে। সময় দেওয়া হয় ৪৫ দিন। এই সময় শেষ হয়েছে গত রোববার। ইতোমধ্যে অনেক পরিচালক আইনটি পরিপালন করেছে। যারা করেনি তাদের পরিচালক পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। ইতোমধ্যে আদেশটি জারি করার জন্য সাক্ষর করেছে বিএসইসি চেয়ারম্যান।
বিএসইসি সূত্র মতে, ২২টি কোম্পানির ৬১ জন পরিচালককে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার জন চিঠি দেয় কমিশন। এর মধ্যে ২৫ জন পরিচালক ২ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। বাকীদের মধ্যে ১৮ জন পরিচালক নিজেরাই কোম্পানি পর্ষদ থেকে চলে গেছে। আর ১০ কোম্পানির ১৭ পরিচালক এখনো পর্ষদে আছেন। তাদের পথ বাতিল করতে যাচ্ছে বিএসইসি।
সূত্র মতে,১৭ জন পরিচালক হলেন-:বাংলাদেশ জেনারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক সোহাইল হুমায়ুন, ইস্টার্ন ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিেটেডের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালক পাইওনিয়ার ড্রেসেস লিমিটেড, ফুয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রেজের পরিচালক হাসিনা ওপনেহ্যাপ।
ইমাম বাটন ইন্ডািস্ট্রিজের পরিচালক মো. লোকমান চৌধুরী, ইনেটক লিমিটেডের পরিচালক এটিএম হাবিবুল আলম,সাদিকা মাহবুব,আনিসুজ্জামান, মেঘনা লাইফ ইন্সুেরেন্সের পরিচালক শারমিন নাসির এবং দিলরুবা শারিমন।
মার্কেন্টাইল ইন্সুেরেন্সের পরিচালক শফিক আহেমদ, আজাদ মোস্তফা, আজিজ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, ফারহানা ইসলাম সোনিয়া এবং সাদ কাদির বিন সোলাইমান,
প্রভাতি ইন্সুরেন্সের পরিচালক হাবিব ই আলম চৌধুরী এবং বদলুর রহমান খান। পূরবী জেনারেল ইন্সুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল, ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালক শাহিনুর আলম।
এ বিষয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম সানবিডিকে বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাজ করছে কমিশন। আমরা চাই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুঁজিবাজার। এর জন্য যা করা প্রয়োজন তা করতে আমরা প্রস্তুত। সবার সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ বাজার গড়ে উঠবে।
উল্লেখ,২০০৯-১০ সালে শেয়ার কারসাজির পর ভয়াবহ দরপতনের প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে ও সম্মিলিতভাবে নূন্যতম শেয়ার ধারণের শর্ত আরোপ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, কোম্পানি পরিচালনায় জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথাযথ প্রতিনিধিত্বশীল পর্ষদ গঠন করা।
ওই নির্দেশনায় পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এককভাবে কমপক্ষে সংশ্নিষ্ট কোম্পানির ২ শতাংশ শেয়ার থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল বিএসইসি। এ ছাড়া কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকার শর্ত দেয়। গত আট বছরে অনেক পরিচালক ও কোম্পানি এ শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
এ নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরই ৪ কোম্পানির ১৪ জন পরিচালক আদালতে রিট করেন। আর শেষ পর্যন্ত পরিচালকদের রিট খারিজ করে বিএসইসির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে আদালত।