স্বস্তি নেই সবজি বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২০-১০-০৩ ১৩:০০:২৫


চলোমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সাথে যুক্ত হয়েছে বিরূপ আবহাওয়া। দুইয়ে মিলে প্রভাব ফেলেছে দেশের কৃষিসহ অন্যান্য খাতগুলোতে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে খুচরা বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। গত কয়েক সপ্তাহ জুড়ে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে, চাল, সবজি, মাস-মাংসসহ তেল-মসলাও। এতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষসহ নিন্মমধ্যবিত্তরা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে চড়া দামে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তসহ পার্শ্ববর্তী বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সকল প্রকার সবজি। খুচরা বাজারগুলোতে সে দাম আরও বেশি। এসব বাজারে শীতকালীন সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে প্রতিটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। নতুন শিম বাজারে আসায় কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। প্রতি কেজি শসা পাইকারিতে ৭০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে এর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া পেঁপে ৩০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, টমেটো ৯০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, গাজর ৯০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, আলু ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের কিছুটা ঝাঁজ কমেছে পেঁয়াজের। দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে ৭০ থেকে ৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেড়েছে।

এছাড়া দেশি রসুন ১১০ টাকা, চায়না রসুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আদা ইন্ডিয়ান ৯০ টাকা, চায়না ২৭০ টাকা ও দেশি ৩০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের ঝাল এদিনও কমেনি। বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায়।

সপ্তাহখানেক আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়তি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম, খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৭ টাকা বাড়তি দরে।

তবে মসলার দাম স্থিতিশীল। প্রতি কেজি দারুচিনি ৩৮০ টাকা, এলাচি ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং জিরা ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল ৬৫ থেকে ৮০ টাকা, বুট ৮০ টাকা ও ছোলার ডাল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মিনিকেট চাল (প্রতি ৫০ কেজি) ২ হাজার ৭৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে। বিআর-২৮ ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। খুচরা বাজারে চালের দাম ২ টাকা কমে কেজিপ্রতি আটাশ ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৫৬ টাকা ও নাজিরশাইল ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হালিপ্রতি ২ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম। ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১০৫ টাকা। দেশি ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়।

মুরগির মাংসের মধ্যে ব্রয়লার ১২০ টাকা, সোনালি ২৩০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, গরুর মাংস ৫৬০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ইলিশ মাছের কিছুটা কমেছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ১ কেজি থেকে ১ কেজি ১০০-২০০ গ্রাম ইলিশের দাম ৭০০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, ২ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি বোয়াল ৬০০ টাকা, ভারতীয় বোয়াল ৪০০ ও শিং মাছ আকারভেদে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তের ব্যবসায়ী গোলাম রসুল সানবিডিকে বলেন, করোনার কারণে সবকিছুর দামই বেড়েছে। এরসাথে গত কয়েকদিন ধরেই থেকে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণে কৃষকরা ঠিক মতো সবজি তুলতে পারছে না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আবার এবার বন্যা হয়েছে। ফলে অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে মরিচ নষ্ট হয়েছে অনেক। সব কিছু মিলে দাম বেড়েছে।

যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার খুচরা সবজি বিক্রেতা হামিদ মিয়া সানবিডিকে বলেন, এ সপ্তাহে প্রতি কেজি আলু ৪০ টাকায় পাওয়া গেলে সামনের সপ্তাহে এ দাম বেড়ে ৪৫ বা ৫০ হতে পারে।

ক্রেতা মনির আহমেদ সানবিডিকে বলেন, প্রতিদিনই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমরা যারা শ্রমজীবী মানুষ তাদের আয় তো আর প্রতিদিন বাড়ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে কপালে কী আছে আল্লাহ ভালো জানেন।