গোপালগঞ্জে ধর্ষণের প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার পদযাত্রা ও বিক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আপডেট: ২০২০-১০-১১ ১৯:২০:৪৩
সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে ছাত্র-জনতার পদযাত্রা ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাবের সামনে অভিজিৎ সাহা’র সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে। বিষয়টা যে একেবারে নতুন সেটাও না।এসবের প্রতিকারে আইনের কঠোর প্রয়োগ বা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতভাবে কার্যকর করা জরুরী। অন্যদিকে সবার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ ও সচেতনতার মাধ্যমে আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগ ও সচেতনতাই পারে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার অবসান ঘটাতে।

এ সময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল মিলন, বাংলাদেশের কম্যুনিস্ট পার্টির সভাপতি-আবু হোসেন, মেহেদী হাসান, গোপালগঞ্জ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক মুক্তি, গোপালগঞ্জ দুর্নীতি বিরোধী কমিটি সাধারণ সম্পাদক মানিক, অশোক কর্মকার, রণেন মন্ডল, চিন্ময় বিশ্বাস সহ সাংস্কৃতি ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যাক্তিত্ব উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মঞ্চ’র এর পক্ষে আনিসুর রহমান রাজু নয় দফা দাবি উত্থাপন করে গোপালগঞ্জ-কোটালিপাড়া লং মার্চের ঘোষণা দিয়েছেন।

নয় দফা দাবিসমূহ:
১। সারাদেশে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ণ বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ণ বন্ধ করতে হবে।
৩। হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।
৪। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫(৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।
৫। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সকল মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।
৬। তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিকমে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৭। ধর্মীয়সহ সকল ধরণের সভা-সমাবেশে নারী বিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএল এর কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চ্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
৮। পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।
৯। গ্রামীন সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এবং সিলেটের এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর থেকে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনসহ আন্দোলনে নেমেছে দেশের সাধারন মানুষসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারন শিক্ষার্থীবৃন্দ।
সানবিডি/নাজমুল/০৭.০৩/১১.১০.২০২০






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













