রাবি ভিসি-প্রোভিসির অপসারণ দাবি সাদা দলের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২০-১০-২২ ১৮:২৪:৫১


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান, প্রোভিসি প্রফেসর ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এ বারীর অবিলম্বে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক গ্রুপ (সাদা দল)।

সাদা দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহা. এনামুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এমতাবস্থায় পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা তারা হারিয়েছেন।

এ দিকে এক বিবৃতিতে সাদাদলের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ইউজিসি গঠিত তদন্ত কমিটি ৩৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন এবং আরও প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার সংযোজনী প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দিয়েছে। যা জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায় ভিসিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে পঁচিশটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ভিসির এ ধরণের দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের মর্যাদাশীল পদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যা গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে জাতির সামনে খাটো করেছে। এধরণের চরম পদস্খলিত, দুর্নীতি পরায়ণ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষপদে কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। তাই অনতিবিলম্বে রাবির ভিসি, প্রোভিসিসহ অভিযুক্তদের অপসারণ করার জন্য আমরা চ্যান্সেলরের প্রতি দাবী জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে স্বক্ষরকারী শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন: প্রফেসর ড. মো. শামসুল আলম সরকার, প্রফেসর প্রফেসর ড. সি. এম. মোস্তফা, প্রফেসর ড. কে বি এম মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর ড. মো. আশরাফুজ্জামান, প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম ফারুকী, প্রফেসর ড. এফএমএ এইচ তাকী, প্রফেসর ড. মো. আমজাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান, প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন, প্রফেসর ড. ফজলুল হক, প্রফেসর ড. ফখরুল ইসলাম, প্রফেসর ড.দিল আরা হোসেন, প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রশীদ, প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল আকন্দ, প্রফেসর ড. গোলাম সাদিক, প্রফেসর ড. আমিনুল হক, প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, প্রফেসর ড. আওরঙ্গজীব আব্দুর রহমান, প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা এছামী, প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলীম, প্রফেসর ড. সৈয়দ সারওয়ার জাহান লিটন, মিসেস লাভলী নাহার, প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ইউজিসিতে দাখিল করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ।

পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগগুলো তদন্তে ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরকে সদস্য করা হয়।
সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করে। এতে তাদের দুর্নীতি সত্যতা খুঁজে পায় ইউজিসি।

সানবিডি/নাজমুল/০৬:২৪/২২.১০.২০২০