করোনায় ই-কমার্সে নতুন সম্ভাবনা

:: রাসেল মাহমুদ || প্রকাশ: ২০২০-১১-০৯ ০৮:২০:১৩ || আপডেট: ২০২০-১১-০৯ ১৯:৫৬:৫৩

 

  • বছরে আকার বাড়ছে ৫০ শতাংশ
  • আগামী ৩ বছরে আকার হবে ৩ বিলিয়ন ডলার
  • উদ্যোক্তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা দরকার: ক্যাব সভাপতি
  • ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে: বাণিজ্য সচিব
  • সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল সেল গঠন

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, হাতের নাগালে স্মার্টফোন আর সহজবোধ্য হওয়ায় বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ই-কমার্স। স্বল্প বিনিয়োগে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করা যায়। গৃহিণী থেকে শুরু করে লাখো বেকার মানুষ তাদের ট্যাগলাইন থেকে বেরিয়ে এসে একজন সফল ই-কমার্স ব্যবসায়ী হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখেন। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এই খাতের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্বপ্ন পূরণ হয়েছে অনেক বেকার তরুণ-তরুণীর। এমনকি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাও প্রথাগত ব্যবসার পাশাপাশি ঝুঁকছেন অনলাইন মাধ্যমে। ফলে করোনা পরিস্থিতিতেও নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এই খাতে।

ই-কমার্স খাতের সাথে জড়িতরা বলছেন, দেশের ই-কমার্স খাতের বর্তমান আকার প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবছরই এই আকার ৫০ শতাংশ করে বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী ৩ বছরে দেশে ই-কমার্সের আকার হবে ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে এই খাতে কিছু সমস্যা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, ই-কমার্স খাতে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে তার যথাযথ সমাধান না করা হলে কিছু অসৎ লোক তার অপব্যবহার করতে পারে, যার ফলে এ খাতের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশে ফেসবুক-ভিত্তিক ই-কমার্সের বিস্তৃতি অত্যন্ত বেশি এবং এ খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্পমূল্যে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বিস্তার দেখে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগ করেছে। সফলতাও পেয়েছে তারা। এর উজ্জল উদাহরণ চীনের প্রতিষ্ঠান আলিবাবা। ‘দারাজ’ কিনে নেয়ার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষ স্থানটি দখল করে রয়েছে।

ই-ক্যাবের তথ্যমতে, ই-কমার্সের ক্রেতারা মূলত শহরকেন্দ্রিক। ই-কমার্সের ৮০ শতাংশ ক্রেতা ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের। এদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ঢাকার, ৩৯ শতাংশ চট্টগ্রামের এবং ১৫ শতাংশ গাজীপুরের। অন্য দুটি শহর হলো-নারায়ণগঞ্জ ও সিলেট। ৭৫ শতাংশ ই-কমার্স ব্যবহারকারীর বয়স ১৮-৩৪-এর মধ্যে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ই-কমার্সের বাজার বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর মধ্যদিয়ে এর ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। তবে চ্যালেঞ্জ হলো- গ্রামে গ্রামে পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা চালু হয়নি। কেবলমাত্র ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে আটকে গেছে ই-কমার্স।

তথ্যমতে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্সের বাজার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা চলতি বছর বেড়ে ২ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার হবে। আর আগামী ২০২৩ সালে বাজারের আকার হবে ৩ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার।

ই-ক্যাব সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ই-কমার্স বাড়ছে খুবই দ্রুত গতিতে। গত তিন বছর ধরে এই খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১০০ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে এই খাত।

জানা গেছে, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত। সব ধরনের পণ্যই এখন বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাবেচা হয়। তবে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। অনলাইনে অর্ডার দেওয়া গেলেও নগদ অর্থেই লেনদেন বেশি হয়। এটাকে বলা হয় ক্যাশ অন ডেলিভারি। অর্ডার অনলাইনে দেওয়া হলেও কল সেন্টার থেকে ফোন করে সেটি আবার নিশ্চিত করা হয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে আসে। কাজেই পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স বাংলাদেশে এখনো সেভাবে চালু হয়নি।

ই-কমার্স সম্পর্কে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি শামস মাহমুদ সম্প্রতি বলেন, দেশে ই-কমার্স খাতের আকার প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। প্রতি বছর এ আকার ৫০ শতাংশ হারে বাড়ছে। ফলে ২০২৩ সাল নাগাদ দেশে ই-কমার্স খাতের আকার হবে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমাতে সামাজিক দূরত্ব মানার কারণে প্রথাগত ব্যবসায়িক খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসা বিকাশিত হয়েছে। কিন্তু ই-কমার্স খাতকে টেকসই করার পাশাপাশি খাতটিকে আরও সংগঠিত করা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তিনি এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে কোভিড চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ই-কমার্স খাতকে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় নিয়ে আসা, ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সঠিক বিধি প্রয়োগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ব্যাংকের তদারকি বৃদ্ধি, ই-কমার্স সেবার ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট ও এসডি যৌক্তিক হারে কমানো, ই-কমার্স ভিত্তিক ব্যবসায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্সিং ও ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সেবার শর্তসমূহ সহজ করা এবং এখাতের ক্ষুদ্র ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু প্রতরণার উদাহরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সম্প্রতি টিসিবি অনলাইনে পেঁয়াজ ক্রয়-বিক্রয় করছে, যার ফলে ভোক্তাদের ভোগান্তি লাঘব করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ই-কমার্স বাণিজ্যের সমূহ সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি ডিজিটাল সেল গঠন করা হয়েছে এবং ডিজিটাল সেল এবং ই-সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে এই খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন 

Sunbd News–ক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ